বড় খবর- এবার বছরভর পিএম ফান্ডে টাকা দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের..

করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ভারতসহ সারা বিশ্বের অর্থনীতি তলানিতে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও এর আগে করোনার বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার জন্য ত্রাণ তহবিলে একদিনের বেতন দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা। এর ফলে কেন্দ্রের ত্রাণ তহবিলে মোট 3900 কোটি টাকা ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে। কিন্তু এবার থেকে বিভিন্ন সরকারি বিভাগে কাজ করা কর্মচারীদের অনুরোধ করা হয়েছে তারা যেন আগামি এক বছর এরকম ভাবেই একদিনের বেতন পিএম রিলিফ ফান্ডে দান করেন।

এ বছরের মার্চ মাস থেকে 2021 সালের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে তারা একদিনের বেতন যেন পিএম রিলিফ ফান্ডে দান করে দেন। রাজস্ব বিভাগের দপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি কর্মী ও পেনশন ভোগীদের আপাতত মহার্ঘ্যভাতাও বাড়ানো হচ্ছে না। কর্মচারীদের পোস্টিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেল, সড়ক পরিবহন, বিদ্যুৎ খাত, শিক্ষা এবং কেন্দ্রীয় সুরক্ষা বাহিনী সহ আরো অন্যান্য বিভাগে বদলি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

অপরদিকে আবার রেল কর্মীদের জন্য ওভার টাইম, ডিএ সহ আরও অন্যান্য ভাতায় কাটছাঁট করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অস্ত্র মন্ত্রকের তরফ থেকে পিএম কেয়ারস ফান্ডে একদিনের বেতন জমা দেওয়া নিয়ে সার্কুলার জারি করা হয়েছে। 2021 সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পিএম কেয়ারস ফান্ডে দিতে হবে। আয়কর দপ্তর এর থেকে ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, করোনা তহবিলে কেউ যদি দান করেন তাহলে আয়করে ছাড় দেওয়া হবে। এবং এই সুবিধা কেন্দ্র সরকারি কর্মচারীরাও পাবেন।

বর্তমানে করোনা মোকাবিলায় প্রচুর টাকা খরচা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের। রাজকোট থেকে হু হু করে বেরিয়ে যাচ্ছে টাকা। সেই জন্য কেন্দ্র তার সমস্ত মন্ত্রক এবং বাকি সমস্ত বিভাগ গুলিতে কর্মরত কর্মচারীদের কাছ থেকে একদিনের বেতন দান করার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। কয়েকদিন আগেই সংসদ এবং মন্ত্রীদের বেতন 30 শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করার ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। প্রসঙ্গত 2009 সালে কেন্দ্র 5% হারে মহার্ঘ্যভাতা বাড়িয়েছে। এর মধ্যেই কর্মীদের ডিএ 12 শতাংশ থেকে বেড়ে 17 শতাংশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবং 13 ই মার্চ সরকারের তরফ থেকে 4 শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য তাকে জানুয়ারি থেকে সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বর্ধিত ডিএ পাবেন। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাস এর জন্য সারা দেশজুড়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের কর্মচারীদের কতটা দিয়ে দিতে পারবে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। প্রতিবছরে জুলাই মাসে ডিএ নিয়ে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে খবর পাওয়া যাচ্ছে, মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকার যা ঘোষণা করেছে তাই বজায় রাখবে। বর্তমানে ডিএ নিয়ে আর কোন নতুন ভাবে বৈঠক করা হবে না।

যদিও সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরাও। অনেকেই মনে করেছেন বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে প্রধানমন্ত্রী তথা দেশের পাশে দাঁড়ানো তাদের কর্তব্য। ডিএ বা মহার্ঘ্যভাতা তো প্রায়ই বাড়ানো হয় সরকারের তরফ থেকে। কিন্তু এখন শুধু একটাই লক্ষ্য দেশকে কীভাবে করোনা মুক্ত করা যায়। একদিনের বেতন পিএম ফান্ডে দান করার মধ্যে তারা কোন ভুল দেখতে পাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন অনেকেই। এর ফলে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা এই কঠিন লড়াইয়ে পাশে আছেন।

Related Articles

Back to top button