কেন্দ্রের বড় ঘোষণা! লকডাউন চলাকালীন কোন কর্মীর বেতন কাটলে ব্যালেন্স শীট পেশ করতে হবে সেই সংস্থাকে..

দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন চলার ফলে বহু বেসরকারি সংস্থাগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আর এর ফলে অনেক জায়গায় শোনা গেছে বেসরকারি সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের ঠিকমতো বেতন দিতে পারছে না আবার অনেক জায়গায় কর্মী ছাঁটাইয়ের মত অভিযোগ উঠে আসে। কিন্তু এবারে নিয়ে এক নয়া নির্দেশিকা জারি করলো আদালত। আদালতে তরফ থেকে জানানো হয়েছে, লকডাউনে কর্মীদের বেতন কাটা হলে ওই সংশ্লিষ্ট সংস্থাটিকে তাদের অক্ষমতা প্রমাণ করার জন্য আদালতে ব্যালেন্স শিট পে করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। গত 29 মার্চ সরকারের তরফ থেকে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়, কর্মীদের বিশেষ করে যারা চুক্তিভিত্তিক কর্মী আছে তারা এই লকডাউনের সময় আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে তাই তাদের কথা ভেবে সংস্থাগুলিকে বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।এরপর 18 মে আবার এই নির্দেশিকা তুলে নেওয়া হয়।প্রথম লকডাউন 21 দিনের জন্য করা হয়েছিল সরকারের তরফ থেকে। এরপর সারা দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসার কারণে লকডাউন বাড়াতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার।

আর এই লকডাউনের সময় যাতে কোনো কর্মীর বেতন কাটা শোনা যায় বা কোন কর্মী ছাঁটাই না হয় তার জন্য আবেদন জানিয়েছিল সমস্ত সংস্থাগুলিকে। আর কোনো সংস্থা যদি এমনটা করে থাকে তাহলে সেই সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল সরকারের তরফ থেকে। প্রসঙ্গত 29 শে মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল সেই নির্দেশিত আবার পরবর্তীকালে 17 মে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে আর সংস্থাগুলির কাছে কর্মী ছাঁটাই করা বা বেতন কাটার কোন বাধা থাকল না। তবে কতগুলি বেসরকারি সংস্থা কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ওপর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল।

সেই সমস্ত সংস্থাগুলি দাবি জানিয়েছিল যে, সব সংস্থায় একরকম নয় তাই বেতন কাটা বা কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে এইভাবে নির্দেশিকা জারি করার কোন মানে হয় না কেন্দ্রের। এছাড়াও তারা এও দাবি করেছে, সরকারের এইভাবে চাপ সৃষ্টি করার ফলে অনেক বেসরকারি সংস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে যার ফলে বহু যুবক বেকার হয়ে পড়বে। তাই এই লকডাউনের সময় কোন বেসরকারি সংস্থা যদি কোন কর্মীদের বেতন না দিতে পারে বা কর্মী ছাঁটাই করে তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।

এরপর সমস্ত দিক থেকে দাবি শোনার পরেই সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করে দেখতে বলে কেন্দ্রকে। এবং এ ব্যাপারে এক সপ্তার মধ্যে কেন্দ্রের কী মতামত তা জানাতে বলে সুপ্রিম কোর্ট। সবশেষে এই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, যদি কোন সংস্থার কর্মীদের বেতন কাটে তাহলে সেই সংস্থাটিকে তাদের অক্ষমতা জানিয়ে অ্যাকাউন্টস এবং ব্যালেন্স শিট দেখাতে হবে।