ভারতের শত্রুদেশ চীনের সাথে বড়োসড়ো চুক্তি স্বাক্ষর এলন মাস্কের টেসলার

এলন মাস্কের বৈদ্যতিক গাড়ির কোম্পানি টেসলা ও ভারত সরকারের মধ্যে হওয়া চুক্তি কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও আইনি জটিলতা ও নানাবিধ সমস্যার কারণে তা এখনও বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। টেসলা ভারতে “টেসলা ইন্ডিয়া মোটরস অ্যান্ড এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড” হিসেবে নিজেদের নাম নথিভূক্ত করেছিল। ভারতে তৈরি হওয়া এইরূপ জটিলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে শোনা যাচ্ছে যে, এলন মাস্কের কোম্পানি টেসলা ভারতের প্রতিপক্ষ দেশ তুরস্কের সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, শুধু তাই নয় তুরস্কের বাজারের কথা মাথায় রেখে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কামাল গেকারকেও নিযুক্ত করেছে।

টেসলার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জানা যাচ্ছে যে, টেসলার বৈদ্যতিক গাড়িগুলি তুরস্কের কয়েকটি প্রদেশ যেমন আঙ্কারা, আন্টালিয়া, ইস্তানবুল সহ আরো কিছু প্রদেশের বাজারে সুপার চার্জার সহযোগে নামতে চলেছে।এছাড়াও তারা বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, রোমানিয়াতেও নিজেদের চার্জিং পয়েন্ট বসাতে চলেছে। ২০২০ সালে তুরস্কতে ১৬০০ টি গাড়ি বিক্রি হলেও ২০২১ সালে সেই সংখ্যাটি ৪০০০ দাড়ায়। আসা করা যায়, তাদের গাড়ির চাহিদা সেই দেশে আরো বাড়বে।

এদিকে ভারত সরকারের শিল্প মন্ত্রক পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, টেসলা ভারতে এসে গাড়ি উৎপাদন শুরু না করলে আমদানি শুল্কতে ছাড় দেওয়া সম্ভবই নয়। অর্থাৎ সরকার মেক ইন ইন্ডিয়ার ওপর বেশি জোর দিতে চাইছে, যাতে দেশে কর্ম সংস্থান বৃদ্ধি পায়। এদিকে এলন মাস্ক জানিয়েছেন, ভারত সরকার আমদানি শুল্ক না কমালে তাদের পক্ষে গাড়ি বিক্রি করা সম্ভব নয।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে দুই একটা মডেল নিয়ে ভারতের বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন যেখানে টাটা, মহিন্দ্রার মত দেশীয় কোম্পানি গুলোর পাশাপাশি হুন্ডাই, অডি, মার্সিডিজের মত বিদেশি কোম্পানি গুলো আগে থেকেই বাজারে নিজেদের জায়গা করে রেখেছে।

প্রসঙ্গত বলে রাখি, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় যেমন কাশ্মীর ইস্যু, ৩৭০ ধারা বিলোপ সহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তুরস্ক সময় সময় ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। এই পরিস্থিতিতে এলন মাস্কের সাথে তুরস্কের চুক্তির ফলে ভারতের সাথে এই বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানির সম্পর্ক কেমন থাকে সেটাই দেখার বিষয়।