ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর সৌরঝড় ব্যাহত হতে পারে ইন্টারনেট পরিষেবা বেশ কয়েক দিন, সতর্কবার্তা গবেষকদের

সৌর-ঝড় এই নামটির সঙ্গে কমবেশি আমরা অনেকেই পরিচিত । সৌর ঝড় ইলেকট্রিক গ্রিড এর উপর মারাত্মক ক্ষতি করে । তার ফলে সৃষ্টি হয় ব্ল্যাক আউটের। বর্তমান মানব জীবনে ইন্টারনেট ছাড়া প্রায় অচলই বলতে চলে । তবে এবার এই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হতে চলেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা এ সৌর ঝড় প্রভাব ফেলতে পারে ইন্টারনেট পরিষেবায়।তার ফলে গোটা বিশ্বে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইন্টারনেট পরিষেবা।

২০২১ সালে ডেটা কমিউনিকেশন কনফার্ম কনফারেন্সে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঙ্গীতা আবদু জ্যোতি এই সৌর ঝড় এর বিষয়টি সামনে এনেছেন তাঁর কথামতো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট পরিষেবা ফাইবার অপটিক্ কেবল ব্যবহার করা হয় সৌর ঝড় এর ফলে যে ভূচৌম্বকীয় তরঙ্গের সৃষ্টি হয় তার ফলে প্রভাব ফেলতে পারে এই কেবলে। তাঁর কথামতো প্রতিটি মহাদেশেই মূলত যেই ইন্টারনেট পরিষেবা তারগুলি ব্যবহৃত হয় সেগুলি ফাইবার কেবল। সমুদ্রের তলার মধ্য দিয়ে এক মহাদেশ এর সাথেে আরেক মহাদেশে সংযোগকারী তারগুলো গিয়েছে। এই ধরনের ফাইবার কেবল সৌর ঝড় এর ক্ষেত্রে খুবই সংবেদনশীল । এখন সমস্যা হলো নিয়মিত বিরতিতে প্রাপ্ত সিগন্যালকে আরো শক্তিশালী করতে যে রিপোর্ট গুলি ব্যবহৃত হয় সেগুলি রকম সৌর ঝড় এর প্রভাব পড়লে তা বিঘ্নিত হতে পারে। ফোনের সমস্ত নেটওয়ার্ক কি সমস্যা হতে পারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সংযোগ মাধ্যম।

বর্তমান করোনাকালীন পরিস্থিতিতে যদি সৌর ঝড় প্রভাব ফেলে ইন্টারনেট পরিষেবা তাহলে বড়সড় ধাক্কা খাবে বিশ্ব ।করোনাকালীন পরিস্থিতিতে সবকিছু সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না । তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌর ঝড় কে সামলানোর পরিকাঠামো নেই । ক্ষতির পরিমাণ কত হবে সে ব্যাপারেও আন্দাজ করা যাচ্ছে না । এর আগে মোট তিনটি সৌর ঝড় এর কথা নথিবদ্ধ করা আছে যেগুলি যথাক্রমে ১৮৫৯, ১৯২১, ১৯৮৯ সালে হয়েছিল।

অতীতের তথ্য বলছে ১৮৫৯ সালেরর যে সৌর ঝড় হয়েছিল তার প্রভাব ছিল বেশ গুরুতর। প্রায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না । এছাড়া যে অরোরা শুধুমাত্র মেরু অঞ্চলে দেখা যায় তা কলম্বিয়া থেকেও দেখা গিয়েছিল। সেই সময়ে আজকের মত বৈদ্যুতিক গ্রিডের এত ব্যবহার না থাকলেও সৌরঝড়ের হলে সেই সময় কম্পাসের সূচকগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে দুলছিল।

১৯৮৯ সালে ঘটে যাওয়া সৌর ঝড় প্রভাব ছিল আরো ভয়াবহ । কানাডার পুরো বৈদ্যুতিক গ্রিট ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ ছিল ৯ ঘণ্টারও বেশি। বৈজ্ঞানিকদের আশঙ্কা গত দশক ধরে যে সমস্ত সৌর ঝড় হচ্ছে তাদের প্রভাব সেইভাবে খুব একটা না হলেও সম্প্রতি আসতে চলা সৌর ঝড় এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

বৈজ্ঞানিক সঙ্গীতা আবদু জ্যোতির কথায় সৌর ঝড় এর প্রভাব কি হতে পারে তার সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা থাকলেও বেশিরভাগ বৈদ্যুতিক গ্রিট গুলো আছে স্থলভাগে। সেগুলো নিয়ে এতটা চিন্তা না হলেও বৈদ্যুতিক গুলি সাগরের নিচে আছে সেগুলো নিয়েই চিন্তার। তবে ইন্টারনেট ব্যবস্থা এমন ভাবে করা আছে যে একটি পথ বন্ধ হলেও নেটওয়ার্ক সচল রাখার জন্য অন্য পথ খোলা থাকবে।তবে এখন আশঙ্কা একটাই সৌর ঝড় এর ফলে ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর তার চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে । ফলে মানব সভ্যতাকে বেশ কয়েকটি দিন ইন্টারনেট ছাড়াই থাকতে হতে পারে।