বেসরকারিকরণের পথে আরও একটি সংস্থা, টাটা গ্রুপের ওপর পড়তে পারে দায়িত্বভার

গত দুই বছর ধরেই বেসরকারিকরণের দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেছে কেন্দ্রীয় সরকার।এবার আরও একটি বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।এবার লোকসানে চলতে থাকা নীলাচল ইস্পাত লিমিটেডকে ১২,১০০ কোটি টাকার বিনিময় টাটা স্টিলকে বিক্রি করে দিতে চলেছে সরকার। তবে এই বিক্রয়কার্য অনুমোদিত হওয়ার সাথে সাথে বিক্ষোভের সরব হয়েছেন অন্যান্য ইস্পাত কারখানার কর্মীরা।

বহুদিন ধরেই উড়িষ্যার কলিঙ্গনগরে অবস্থিত এই ১১ লক্ষ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ইস্পাত কারখানাটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। ২০২০ সালের ৩০ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় এই কারখানা। ২০২১ সাল পর্যন্ত এই কারখানাটির নামে ঋণ হয়েছে প্রায় ৬৬০০ কোটি টাকা। এই ব্যাপক অর্থের ঋণের মধ্যে ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছিল ১৭৪১ কোটি টাকা এবং প্রোমোটারদের থেকে নেওয়া হয়েছিল ৪১১৬ কোটি টাকা।

এহেন পরিস্থিতিতে গত বছর থেকেই শর্তসাপেক্ষে নীলাচল ইস্পাত লিমিটেডের বেসরকারিকরণে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এই বিক্রয় প্রসঙ্গে টাটা স্টিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সি ই ও টি ভি নরেন্দ্রন জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে টাটা স্টিল। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার টাটা গ্রুপের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া।

শীঘ্রই বিমান সংস্থা এলআইসি- ও বেসরকারিকরণ করে দেবেন মোদি সরকার। মার্চের শেষের মধ্যে এলআইসি বেসরকারিকরণ হয়ে যাবে বলে জানা গেছে। পরপর এতগুলি সরকারি সংস্থা বেসরকারিকরণ করে রীতিমতো ক্ষুব্ধ সাধারন মানুষ।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক সংস্থা বেসরকারিকরণ হয়ে যাওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। তবে এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের দাবি, বেসরকারি হয়ে গেলে পরিষেবা আরো ভালো পাওয়া যাবে। এই কথাটা কি সত্যি ঠিক নাকি, পরিস্থিতি সামলানোর জন্য এমন কথা বলছেন কেন্দ্রীয় সরকার, তা বোঝা যাবে আরো কিছু বছর পর। আপাতত আমাদের সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।