পাখির বাসা বাঁচাতে 35 দিন আলোই জ্বালালেন না গ্রামবাসীরা, মানবিকতার দৃষ্টান্ত তামিলনাড়ুতে..

এমন অনেক ঘটনা ঘটে যেখানে মানুষ তাদের মানবিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিভিন্ন জায়গা থেকে পশুদের উপর অত্যাচার করার ঘটনা উঠে আসে। কিছুদিন আগেই আমরা শুনেছিলাম খাবারের ভিতরে বোম ঢুকিয়ে একটি হাতি কে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়াও খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে পশু হত্যা করা তো লেগেই রয়েছে। আমাদের মানব সভ্যতায় যেমন খারাপ মানুষ রয়েছে তেমনি আবার ভালো মানুষও রয়েছে। আর আজ যে ঘটনাটির কথা বলছি সেটি ঘটেছে তামিলনাড়ুতে।

যেখানে পাখির ছানা বাঁচাতে গিয়ে প্রায় এক মাসের ওপর স্ট্রিট লাইট জ্বালায় নি তামিলনাড়ুর শিবাগঙ্গা জেলার পোথাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দারা। বেশ কয়েক দিন ধরে একটি ছোট্ট বুলবুলি পাখি গ্রামের একটি কমিউনিটি সুইচ বোর্ডে বাসা বাঁধে। ওই পাখিটি সেখানে 3 টি ডিম পাড়ে। সেই পাখির বাসা এবং ডিম রক্ষা করতে সেখানকার গ্রাম বাসিরা টানা 35 দিন রাস্তার লাইট ব্যবহার করেননি। তারা অন্ধকার রাস্তাতেই যাতায়াত করতেন।

যেখানে ওই পাখিটি বাসা বেঁধেছিল তার পাশেই একজন কলেজপড়ুয়া কারুপ্পুরাজার বাড়ি। তিনি জানিয়েছেন, লকডাউন শুরু হওয়ার পর আমার চোখে পড়ে একটি পাখির মুখে করে ঘর এবং পাতা নিয়ে যাচ্ছে ওই কমিউনিটি সুইচ বোর্ডে। এরপর আমি যখন ঐ বোর্ডের ঢাকনা খুলে দেখি তখন তিনটি সবুজ-নীলচে রংয়ের ডিম দেখতে পায়। এই পাখিটি কে এবং তার ডিমগুলিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য গ্রামের সমস্ত যুবকরা মিলে এই সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে গ্রামের সমস্ত যুবকরা মিলে একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খুলেন। এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যতদিন না পর্যন্ত পাখিটি ডিম ফুটে বাচ্চা বের হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।

পাখিটি সেখানে যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে তার জন্য সমস্ত স্ট্রীট লাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন গ্রামবাসীরা। পাখিদের যখনই বাচ্চা বেরিয়ে যাবে তখনই আবার স্ট্রীট লাইট আগের মত জ্বলবে।
যদিও প্রথমে অনেক মানুষজন এটা মানতে রাজি ছিলেন না যে ওই পাখিটির জন্য লাইট বন্ধ থাকবে। পরে অবশ্য যুবক-যুবতীরা উনাদের রাজি করিয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এ বিষয়ে গ্রামের এক বাসিন্দা সালভি জানিয়েছেন যে, আমরা মোবাইলের টর্চ বা টর্চ লাইট দিয়ে এতদিন ধরে যাতায়াত করতাম আমাদের কোনো রকম অসুবিধা সৃষ্টি হয়নি।

পাখিটির উপর নজর রাখার জন্য গ্রামের দুইজনার উপর দায়িত্ব ছিল। তারাই প্রত্যেকদিনই বাক্স খুলে দেখবেন কেমন অবস্থায় রয়েছে ওই পাখিটি।গ্রামের ওই দু’জন যুবক জানিয়েছেন যে, আমরা প্রত্যেক দিন তার বাসাটি পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। সেখানে কোন বিদ্যুতের তার পড়ে রয়েছে কিনা সেটাও দেখতাম প্রত্যেকদিন। এই করেই পাখিটি ধীরে ধীরে বড় হয় এবং তার ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে যায়।’