অতিরিক্ত সুন্দরী হওয়ার কারণে বলিউডে নষ্ট হয়ে গিয়েছে ক্যারিয়ার! বড়োসড়ো ষড়যন্ত্রের শিকার দিয়া মির্জা

বিশ্বসুন্দরীদের তালিকায় ছিলেন তিনি। তাঁর রূপের মধ্যে ছিল একটি স্নিগ্ধতা। অনায়াসে মোহিত হয়ে যেতে পারতেন যে কেউ। এই নায়িকা হলেন দিয়া মির্জা। মিস এশিয়া প্যাসিফিক, খেতাব জয় করেছিলেন তিনি। অন্যান্য মডেলদের মতোই তাঁর স্বপ্ন ছিল বলিউডে নিজের মাটি শক্ত করা। সেই কাজটা আরও অনেক বেশি মসৃন হয়ে গেল, যখন তিনি বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব জিতেছিলেন।

“রেহেনা হে তেরে দিল মে”, সিনেমায় মাধবনের বিপরীতে দুর্দান্ত অভিনয় করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আজও সেই অভিনয় আমাদের মুগ্ধ করে। দিয়া মির্জার বাবা ছিলেন জার্মান এবং মা ছিলেন বাঙালি। ১৯৮১ সালে জন্ম হয়েছিল তাঁর। হায়দ্রাবাদের একটি সচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয়েছে দিয়া মির্জার।

দুর্ভাগ্যবশত সাড়ে চার বছর বয়সেই বাবা মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মা বিয়ে করেন আহমেদ মির্জাকে, এভাবে অচিরেই দিয়ার সঙ্গে জুড়ে যায় মির্জা পদবী। স্বাধীনচেতা এই অভিনেত্রী কলেজে পড়াকালীন মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি করতে করতে পাল্লা দিয়ে করতেন মডেলিং। যদিও মা একেবারেই পছন্দ করতেন না এই মডেলিং এবং অভিনয়। কিন্তু বাবা আহমেদ মির্জার সমর্থন পেয়ে জোর কদমে নিজের লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে ছিলেন দিয়া মির্জা। যে বছর মিস ওয়ার্ল্ড হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং লারা দত্ত হয়েছিলেন মিস ইউনিভার্স, ঠিক সেই বছর মিস এশিয়া প্যাসিফিক জয় করেছিলেন দিয়া মির্জা।

স্বপ্ন পূরণ হতে আর বেশী দেরী হয়নি। ছবির প্রস্তাব নিয়ে বলিউড এসেছিল তাঁর দরজায়। বাকিটা ছিল ইতিহাস। রাতারাতি সকলেই চিনে ফেললেন এই সুন্দরীকে। একের পর এক দুর্দান্ত অভিনয় করে সকলকে মনোরঞ্জন করেছিলেন তিনি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত একটানা ৪২ টি ছবি করেছিলেন এই অভিনেত্রী। তবে সফল অভিনেত্রী হতে গেলে যে মাপকাঠি দরকার হয় সেই মাপকাঠি অর্জন করতে পারেননি দিয়া মির্জা।

বলিউডের তিন খানের বিপরীতে অভিনয় করা হয়নি তার। একসময় যখন অন্যান্য অভিনেত্রী শ্যাম বর্ণ হওয়ার কারণে কাজ পেতেন না, ঠিক তখনই দিয়া মির্জা অতিরিক্ত ফর্সা হওয়ার কারণে অস্বস্তিতে ভুগতেন, এও ছিল এক প্রকার বডি শেমিং।

২০১৪ সালে নতুন কিছু করার উদ্দেশ্যে প্রাক্তন স্বামীর সাহিল সংঘের সঙ্গে নিজের প্রযোজনা সংস্থা বর্ন ফ্রী এন্টারটেইনমেন্ট, খুললেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় তাঁদের। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নতুন প্রযোজনা সংস্থা ওয়ান ইন্ডিয়া স্টোরিজ, তৈরি করেছিলেন তিনি।

২০২১ সালে বৈভব রেখিকে বিয়ে করেন দিয়া মির্জা। সদ্য অভ্যান আজাদের মা হয়েছেন তিনি। স্বাধীনচেতা এই অভিনেত্রী পরিচয় পত্র ধর্মের জায়গাটিতে কোন কিছু লেখেন না কারণ তিনি ধর্মে বিশ্বাস করেন না। দোল উৎসবে জলের অপব্যবহার হোক অথবা নারীবিদ্বেষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার, সবকিছুই করেছিলেন তিনি।