জিৎ কোয়েল অভিনীত বন্ধন সিনেমার সেই ছোট্ট অংশু এখন হয়ে গিয়েছে হ্যান্ডসাম হাঙ্ক, দেখুন ছবি

আজ থেকে কুড়ি বছর আগে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল সেই জায়গায় অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জিৎ এবং কোয়েল। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা এই জুটির সিনেমা দেখতে ভীষণ পছন্দ করেন। টলিউডের অন্যতম হিট এই জুটির অন্যতম একটি মাইলস্টোন হল বন্ধন। এই সিনেমাতে অভিনেতা ভিক্টরের পাশাপাশি আরও অনেক কলাকুশলীরা অভিনয় করেছিলেন। তবে যে শিশু শিল্পীকে ঘিরে এই পুরো সিনেমাটি তৈরি করা হয়েছিল সেই শিশু শিল্পীর নাম ছিল মাস্টার অংশু।

অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা দ্বারা সকলের মন জয় করে নিয়েছিল এই শিশু শিল্পী।২০০৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল বন্ধন। তবে শুধুমাত্র এই সিনেমায় নয়, আরো অনেক বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন অংশু বাচ। এই ছোট্ট মিষ্টি ছেলেটির অসাধারণ অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতেন সকলেই। তবে আজ আর ছোট নেই সেই ছোট্ট শিশু শিল্পী। কিন্তু আজ রীতিমতো হ্যান্ডসাম ছেলেতে পরিণত হয়েছেন তিনি। আজ এমন কিছু ছবি শেয়ার করছি আপনাদের সঙ্গে যা দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন ১৮ বছরের ব্যবধানে কতখানি বদলে গেছে সেই ছোট্ট শিশু শিল্পী অংশু।

জিৎ-কোয়েলের সেই অনস্ক্রীন পুত্রকে এখন দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। যখন বন্ধন সিনেমাতে অভিনয় করেছিলেন তিনি তখন বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। যদিও আরো অনেক সিনেমাতে অভিনয় করেছেন তিনি কিন্তু বন্ধন সিনেমার অভিনয় জন্য সারাজীবন সকলে মনে রেখে দিয়েছেন অংশুকে। তবে ক্যামেরার মুখোমুখি তিনি প্রথম হয়েছিলেন নাটের গুরু সিনেমার হাত ধরে ২০০৩ সালে। এরপর প্রসেনজিৎ এবং রচনা অভিনীত সিনেমা অগ্নি, রাজু আঙ্কেল, মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত “এম এল এ ফাটাকেষ্ট” সিনেমাতে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

একাধিক বাংলা সিনেমাতে অসাধারণ অভিনয় করে আচমকাই তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন সিনেমা জগৎ থেকে। ২০১৭ সালে অংশু অভিনীত টেককেয়ার নামক একটি শর্ট ফিল্ম- এ অভিনয় করার জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। মুনসুর মেলোডিজ নামে একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন তিনি। ক্যারিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে সব থেকে উল্লেখযোগ্য কাজ হল স্টার জলসার “কে আপন কে পর” ধারাবাহিকের অভিনয় করা। এই ধারাবাহিকে নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শিশুশিল্পী হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও বড় হয়ে সেই ভাবে জায়গা করতে পারেননি তিনি। যদিও নিজের স্ট্রাগল এখনো বজায় রেখেছেন অভিনেতা এবং সেই স্ট্রাগেল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একবার সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, এমন অনেক রাত আমি নিদ্রাহীন ভাবে কাটিয়েছিস সারারাত কেঁদে কেঁদে। আমি ভীষণ সৌভাগ্যবান যে আমার চারপাশের মানুষ আমাকে সর্বদা সাহায্য করেছে। কিন্তু এই লড়াইটা একেবারেই আমার। পরিশ্রম করে নিজের শিল্পকে আরো উন্নত করবো আমি এবং একদিনে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পরিচয় তৈরি করব, এটাই বিশ্বাস আমার।