বিতর্ক যেন পিছু ছাড়তে চায় না, লাল সিং চাড্ডার আগেও ৫ বার বড়সড় বিতর্কে জড়িয়েছেন আমির খান

বর্তমানে আমির খান ভীষণভাবে চিন্তিত তাঁর নতুন সিনেমা লাল সিং চাড্ডা নিয়ে। ইতিমধ্যেই সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে এবং সিনেমাটি বয়কট করার দাবি করেছেন জনগণ। পুরনো একটি বিতর্কের জেরে এই দাবি করেছেন তারা। আমির খানের ২০১৫ সালে একটি বক্তব্যকে ঘিরে লাল সিং চাড্ডা সিনেমাটি বয়কট করা হয়েছে। সিনেমা প্রসঙ্গে সম্পতি একটি সাক্ষাৎকারে আমির খান আরো একবার সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন নিজের মন্তব্যের জন্য।

কিন্তু আমির খানের বিতর্ক এই একটি মন্তব্যকে ঘিরে কিন্তু তৈরি হয়নি। বেশ কয়েকবার নানান বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। চলুন একবার পিছনে ফিরে দেখে নেওয়া যাক কোন কোন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন আমির খান এবং কিভাবে সেই বিতর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি।

১) ২০০৫ সালে, একটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ম্যাগাজিন আমির খানের অবৈধ সন্তান সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে নিয়েছিলেন সকলের কাছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আমির খান ব্রিটিশ সাংবাদিক জেসিকা হাইন্সের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন এবং সম্পর্কে থাকাকালীন একটি ছেলেকে জন্ম দিয়েছিলেন জেসিকা। পরবর্তীকালে ওই সন্তানের দায়ভার নিতে অস্বীকার করে দেন আমির খান। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গুলাম সিনেমা চলাকালীন আমির খানের সঙ্গে আলাপ হয় ওই সাংবাদিকের। দুজনের সম্পর্ক শুরু হয় এবং জেসিকা অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন। প্রথম দিকে আমির খান জেসিকার গর্ভপাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু জেসিকা রাজি হননি এবং একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। পুত্র সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর আমির খানের সঙ্গে জেসিকার আর কোনো সম্পর্ক হয়নি। পরবর্তীকালে ২০০৭ সালে জেসিকা লন্ডন ভিত্তিক ব্যবসায়ী উইলিয়াম ট্যালবোটকে বিয়ে করেন।

২)মেলা সিনেমা চলাকালীন আমির খানের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তার ভাই ফয়জল খান। একবার একটি সাক্ষাৎকারে আমির খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন ফয়জল খান। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, আমির একা বাবার সম্পত্তি হস্তগত করতে চেয়েছিলেন এবং তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ করতে চেয়েছিলেন। সেই লড়াই এতটাই ভয়ংকর হয়েছিল যে কোর্ট পর্যন্ত টানা হয় আমির খানের সম্পূর্ন পরিবারকে। আমির আদালতের কাছে বাবার এবং ফয়জলের হেফাজত চেয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে সেই হেফাজত দেওয়া হয়েছিল আমিরকে। পরবর্তীকালে ফয়জল খান সকলের কাছে বলেন, হেফাজতে থাকাকালীন আমির এমন কিছু করেছিলেন যা মনে করে তিনি এখনও ভয় পান।

৩) একবার অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে আমির খানের দ্বন্দ্ব বেঁধে যায়। অমিতাভ বচ্চন যখন ব্ল্যাক সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতা হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন তখন অমিতাভ বচ্চন কে উদ্দেশ্য করে আমির খান বলেছিলেন, অমিতাভ বচ্চন নাকি সিনেমাতে অতিরিক্ত বাজে অভিনয় করেছিলেন। তিনি সিনেমাতে প্রতিবন্ধী ব্যাপারটিকে এত ভুল ভাবে চিত্রিত করেছিলেন যাতে মানুষের সহানুভূতি অর্জন করা যায়। উত্তরে উপযুক্ত জবাব দিয়ে বিগ বি বলেছিলেন, লাগান সিনেমাতে প্রতিবন্ধীকে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায় তাই আমির খানের এই বিষয়ে কোনো কথা না বলাই উচিত।

৪)রাজকুমার হিরানি সিনেমা পিকে সম্পর্কে আমরা সকলেই জানি। আমরা এটাও জানি, এই সিনেমার পোস্টারে নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আমির খান। রেল লাইনের মাঝখানে নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি শুধুমাত্র ট্রানজিস্টার দিয়ে নিজের যৌনাঙ্গ লুকিয়ে রেখেছিলেন আমির খান। পোস্টার নিয়ে এমন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল যে বিষয়টি পরবর্তীকালে আদালত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।

৫)আমির খানের সঙ্গে শাহরুখ খানের যে বিবাদ তৈরি হয়েছিল সে কথা আমরা সকলেই জানি। একবার আমির খান একটি সাক্ষাৎকারে লিখেছিলেন, শাহরুখ আমার পায়ের পাতা ছাড়ছে এবং আমি তাকে বিস্কুট খাওয়াচ্ছি। কথাটি স্বাভাবিকভাবেই শাহরুখ ভক্তদের ভীষণ খারাপ লেগেছিল এবং একটি উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। পরবর্তীকালে আমির খান আর একটি সাক্ষাৎকার স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে,তিনি যে শাহরুখের কথা বলছেন, সেটি তার বাড়ির পোষ্য কুকুর।