স্বাস্থ্যসাথী না আয়ুষ্মান ভারত কোন প্রকল্প আপনার জন্য সুবিধেজনক?দেখুন পার্থক্য

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা সরকার প্রচার করেছে দুয়ারে সরকার প্রকল্প। তার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প। ভোটের আগেই স্বাস্থ্য সাথী হয়েছে সর্বজনীন‌। এর আগে এই প্রকল্প সকলের জন্য উপলব্ধ ছিল না। আর এতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদী সরকার আয়ুষ্মান প্রকল্প ঘোষণা করেছে৷ বিজেপির দাবি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে পশ্চিমবঙ্গে আসতে দেওয়া হচ্ছে না৷ সেইসঙ্গে বিজেপির দাবি, এই স্বাস্থ্যসাথী আয়ুষ্মান ভারতের প্রকল্পকে নতুন নাম দিয়ে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করছে৷

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি’র এই দাবি যদি মেনে নেওয়া হয় তাহলে একথাও সত্যি মমতা যেভাবে দুয়ারে সরকার এর মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে বিজেপি এই এ’রাজ্যে তা করতে ব্যর্থ৷ ভোটের মুখে তৃণমূলের অনেক ভুল ত্রুটি সামনে এলেও স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প এর মাধ্যমে বিজেপিকে বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে মমতা সরকার৷

স্বাস্থ্য-সাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত

দেখে নেওয়া যাক কোন প্রকল্পে কী সুবিধা?

পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
• একটি মেডিক্লেম পলিসি শুরু করেছিলেন যার নাম ‘স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প’।
• উদ্দেশ্য ছিল, রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে কম খরচে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।
• প্রত্যেক পরিবার বীমার আওতায় থাকবে এবং প্রতি পরিবার ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবে।
• পরিবারের কোনও ব্যক্তি জটিল রোগে আক্রান্ত হলে, চিকিৎসার জন্য সরকারের তরফ থেকে ৩.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
• বিনামূল্যে ওষুধ, খাবার, চিকিৎসা পরিষেবা পাবে৷ গ্রহণ করতে পারবে। সরকার থেকে যাতায়াত খরচা বাবদ অতিরিক্ত ২০০ টাকা পাবে।

কোন কোন পেশার লোক পাচ্ছিলেন?

তার জন্য ব্যাক্তি’কে নিরাপত্তা কর্মী (গ্রিন ভলান্টিয়ার্স, সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার্স, সিভিক ভলান্টিয়ার্স, ভিলেজ ভলান্টিয়ার্স), হোমগার্ড, আইসিডিএস কর্মী ও সহকারী হতে হত৷ শ্রমিক বা দিন-মজুর, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের স্বনির্ভর গোষ্ঠীভুক্ত, পুরসভা এলাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীভুক্ত, আশা কর্মী, অনারারি হেলথ ওয়ার্কার্সের স্বামী, স্ত্রী, পিতা-মাতা ও শ্বশুর-শাশুড়ি, ১৮ বছর পর্যন্ত প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে হলেও এই সুবিধা পাওয়া যেত । ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সকল সদস্য ও তাঁদের পরিবার, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আংশিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী পুরোনো স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় ছিলেন৷

পেতে গেলে কী কী করবেন?

রোগীর পরিবারে অবশ্যই থাকতে হবে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড। জেলার ব্লকস্তরের বাসিন্দা’দেরকে বিডিও অফিসে এবং শহরের বাসিন্দা’দেরকে পুরসভায় যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০-৩৪৫-৫৩৮৪ এ ফোন করে বিস্তারিত জানতে পারেন।

 

স্বাস্থ্যসাথী আয়ুষ্মান ভারত

মাত্র ৩০ মিনিটে ফুল চার্জ, এবার হিরো আনছে ইলেকট্রনিক বাইক

 

নতুন স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প

• হাসপাতালে ভর্তির বিপুল ব্যয় থেকে বাসিন্দাদের সুরক্ষার কথা ভেবে সবার জন্য ‘স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প’ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
• ১ ডিসেম্বর-২০২০ থেকেই এই ঘোষণা কার্যকর হয়ে গিয়েছে ৷
• আগে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে আসার জন্য নির্দিষ্ট পেশার সাথে যুক্ত থাকতে হতো। এবার সব রাজ্যের মানুষ এই প্রকল্পের মধ্যে চলে আসবেন।
• কার্ড দেওয়া হবে গৃহকর্ত্রীর নামে। কার্ডের আওতায় থাকবেন পরিবারের বাকি সদস্যরা।
• পরিবারপিছু মিলবে ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিত্সার সুযোগ।
• স্বাস্থ্য সাথীর স্মার্ট কার্ড দেখাতে মিলবে ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা।

Sasto Sathi

• রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বহু বেসরকারি হাসপাতাল, দিল্লির এইমস এবং ভেলোরে এই কার্ডের সুবিধা নেওয়া যাবে।
• পরিবারের কোনও সদস্য যদি সরকারি স্বাস্থ্যবীমার (CGHS, WBHS, ESI, etc) উপভোক্তা হন তাহলে তারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। যারা সরকার বা সরকারি সংস্থা থেকে বেতন এর সাথে চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance) পান তারা এই প্রকল্পে যুক্ত হতে চাইলে চিকিৎসা ভাতা পাবেন না।

আয়ুষ্মান ভারত

আয়ুষ্মান ভারত

২০১৮-তে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনার কথা ঘোষণা করা হয় দেশের দরিদ্র মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি পরিবারকে, ৫ লক্ষ টাকার বীমা দেওয়া হয় এই যোজনায়। শহরাঞ্চলের ২.৩৩ কোটি ও গ্রামাঞ্চলের ৮ কোটি পরিবার প্রকল্পের আওতায় ছিলেন ।

গ্রামাঞ্চলে তফশিলী জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়, যে পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কোনও পুরুষ অথবা কোনো ব্যক্তি নেই, পরিবার কোনও একজন সদস্য শারীরিকভাবে অক্ষম,যাদের নিজস্ব কোনও জমি নেই, যারা শ্রমিকের কাজ করেন, যাদের ঘরের কোনও ছাদ বা দেওয়াল নেই তারা এই সুবিধা পাবেন৷

শহরাঞ্চলে যারা কারও বাড়িতে কাজ করে,
হস্তশিল্পের বা দর্জির কাজ করেন, হকার, সাফাইকর্মী/ চৌকিদার,ঝাড়ুদার, মালী, ড্রাইভার, কনডাক্টর, হেল্পার, রিক্সাওয়ালা, ডেলিভারি বয়, দোকানদার, ওয়েটার অর্থাৎ অসংগঠিত ক্ষেত্রের লোকজন পাবেন এই সুবিধা৷

 

মোদি সরকারের আয়ুষ্মান ভারত

কিন্তু যাদের দুই বা চার চাকার গাড়ি আছে,
যাদের কৃষিকাজ করার জন্য উন্নত প্রযুক্তির মেশিন আছে, যাদের মাসিক আয় ১০ হাজারের বেশি, সরকারি চাকরি করেন, যাদের ফ্রিজ ও ল্যান্ডলাইন আছে,যাদের বড়, পাকা বাড়ি আছে
যাদের ৫ একর বা তার বেশি জমি আছে তারা আয়ুষ্মান প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না৷