মোদী সরকারের দ্বিতীয় কার্যকালে কতটা সন্তুষ্ট দেশের জনতা, সি ভোটারের সমীক্ষায় চমকপ্রদ পরিসংখ্যান

২০১৯ সালে ভারতবর্ষের জনগন দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আসনে নরেন্দ্র দামোদর মোদিকে বসান। প্রথম বারের তুলনায় দ্বিতীয়বারের মোদি সরকারের আসন সংখ্যা বেশি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়বারের কার্যকলাপে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কিছু প্রশ্ন ওঠে। শুধু দেশীয় সংবাদ মাধ্যম নয় বিদেশেরও বহু সংবাদমাধ্যমে সমালোচনা করা হয়েছে মোদি সরকারের। এনআরসি, সিএএর মত বিল, কৃষি বিল এবং করোনাকালে দেশকে মহামারী থেকে সামাল দিতে না পারার জন্য মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

 

ভারতের করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিগত ৪৫ বছরের থেকে এইবারে বেকারত্বের সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে বেশি। তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই মোদি সরকারের কোন পদক্ষেপকে সবথেকে বেশি সফল বলে মনে করছেন দেশবাসী সেই নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয় চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক সমীক্ষার তথ্য থেকে কী উঠে আসছে?

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপঃ-

এই সমীক্ষাটি চালানো হয়েছে ৫৪৩ টি লোকসভা কেন্দ্রের প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের উপর। এর মধ্যে ৪৭.৪% জনতা বলেছেন কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করা সিদ্ধান্তটি মোদি সরকারের সঠিক ছিল। ৫১ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে ৩৭০ ধারা বাতিল করার ফলে কাশ্মীরের স্থায়ী সমস্যার সমাধান ঘটেছে। ৬০ % মানুষ মনে করেন ৩৭০ ধারা বাতিল করার ফলে রাজনৈতিক মহলে বেশ টালমাটাল অবস্থার সঞ্চার হয়। বহু নেতাদের গ্রেপ্তার করতে হয়, কার্ফু জারি করতে হয়। এতে স্থায়ী সমস্যা সমাধান হয়েছে। বিগত দু’বছরে পরিস্থিতির আরো অনেক বেশি উন্নতি হয়েছে।

বিদেশনীতিঃ-

মোদি সরকারের শাসনকালে ভারতের বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই সরকারের বিদেশনীতি যে সফল তা মনে করেন ৬২.৩ শতাংশ মানুষ। বিদেশনীতিকে সাফল্যের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে করোনা মহামারীর সময় ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল ফ্রান্স, রাশিয়া, আমেরিকা, ইজরায়েলের মতো একাধিক দেশ।

রাম মন্দির নির্মাণঃ-

ভোটের আগেই বিজেপি তখন ইস্তাহার প্রদান করেছিল তার প্রথম সারিতেই ছিল রাম মন্দির নির্মাণের কাজটি। তাই দ্বিতীয়বারে ভারতের সিংহাসনে বসার পর তড়িঘড়ি করে রাম মন্দির নির্মাণের কাজটির জন্য তৎপর হয়ে ওঠে এই বিজেপি সরকার। আদালতের কাছ থেকে রায় পেয়ে অযোধ্যায় শুরু হয়ে গেছে রাম মন্দির নির্মাণের কাজটি। প্রায় ২৩.৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মধ্যেই রয়েছে সরকারের সাফল্য।

করোনা প্রতিরোধে ব্যর্থ বিজেপি সরকার, তবে লকডাউনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে একমত মানুষ:- করোনা প্রতিরোধ করতে বিজেপি সরকার বেশ কিছুটা ব্যর্থ হলেও লকডাউনে্য সিদ্ধান্তকে সহমত জানিয়েছে ৬৮.৪ শতাংশ মানুষ। করোনার দ্বিতীয় ওয়েবের সময় কেন্দ্র সরকার লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিজেদের হাতে না তুলে নিয়ে রাজ্যগুলির ওপরে সেই ভার দেয়। ৫৩.৪ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছে সরকারের এই তড়িঘড়ি করে লকডাউন না করার নীতিকে। ৪৮ শতাংশ মানুষ সরকারের ভ্যাকসিন বন্টনের নীতিকে সমর্থন করেছেন। অপরদিকে অসমর্থন করেছেন ৪৪ শতাংশ মানুষ।

পরিশেষে বলতে পারি কেন্দ্র সরকারের প্রথম বারের শাসনকালের সফলতার মত দ্বিতীয়বারের সফলতা না পেলেও। কিছু কিছু নীতিতে দেখা গিয়েছে কেন্দ্র সরকারকে সাফল্য পেতে।