ভারতের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে ড্রাগনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে দাঁড়ালো আমেরিকা..

কয়েকদিন আগে গালওয়ান উপত্যকায় চীনের সেনারা ভারতীয় জওয়ানদের নৃশংসভাবে হত্যা করে আর তারপর থেকে ভারত চীনের মধ্যে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। সকল ভারতীয় চীনের এরকম এক পদক্ষেপের দরুন চীনা পণ্য বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে, অন্যদিকে ভারত সরকারও চীনকে শায়েস্তা করতে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। যেখানে ভারত সরকার আগামী দিনে চীনের সাথে যেসব প্রজেক্ট গুলি করার জন্য টেন্ডার পাস করেছিলেন সেগুলি বর্তমানে রুখে দেওয়া হয়েছে। আর তার পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিকম সংস্থাগুলিকে সরকারের তরফ থেকে এই মুহূর্তে চীনাপণ্য ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

তবে এখানেই শেষ নয় এর পাশাপাশি ডিজিটাল দিক থেকে চীনকে বড় ধাক্কা দিতে মোদি সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যে 59 টি চীনা অ্যাপ ব্যান করা হয়েছে। আর এই চীনা অ্যাপগুলি ব্যান হওয়ার ফলে চীন যে বড়সড় ধাক্কা পেয়েছে তা বলা যেতে পারে। এইবার ভারত সরকার এরকম এক পদক্ষেপের দরুন ভারতের সমর্থনে পাশে দাঁড়ালো আমেরিকা। ভারতের নেওয়া এই পদক্ষেপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রশংসা করা হয়েছে। অন্যদিকে এই বিষয়ে আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পিও বলেন এই পদক্ষেপ ভারতের সার্বভৌম ক্ষমতা, অখন্ডতা আর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাকে মজবুত করবে।

তবে যেমনটা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে এই মুহূর্তে ভারত আর চীনের মধ্যে সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় পৌছে গেছে। তাছাড়া গালওয়ান উপত্যকাতে চীন যে কুকীর্তি করেছে তার জেরে ভারত এবার ড্রাগনের দেশকে উচিত শিক্ষা দিতে চাইছে। যার জন্য ইতিমধ্যে ভারত সরকার কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। আর সরকার চীনকে ভাতে মারার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যার দরুন মোদি সরকার এবার এই যে 59 টি চীনা অ্যাপ ছিল সেগুলি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর এই গুলির মধ্যেই শামিল রয়েছে অতি জনপ্রিয় অ্যাপ টিকটক, শেয়ারইট, হ্যালো, ইউসি ব্রাউজারের নাম।

তবে এবার আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রী জানান ভারত সরকারের এরকম ভাবে অ্যাপগুলিকে ব্যান করা পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন জানাচ্ছি, তিনি বলেন এই অ্যাপগুলি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নজরদারির অঙ্গ ছিল। তাছাড়া গোটা বিশ্বে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে চীন এখন গোটা বিশ্বের নজর চলে এসেছে। আমেরিকার, জার্মানি সহ একাধিক দেশের নিশানাতে রয়েছে এই মুহূর্তে চীন। তখন লাদাখ সীমান্ত বিবাদ নিয়ে চীন ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া অ্যাকশন নিচ্ছে অরেকদিকে চীনের সাথে জাপানের ও সীমান্ত নিয়ে চরম বিবাদ চলছে।

আর এবার চীনকে উচিত শিক্ষা দিতে আমেরিকা সহ আরও অন্যান্য দেশগুলো ভারতের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। তাছাড়া ফ্রান্সের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ভারতের হাতে তারা পাঠিয়ে দিতে চলেছে রাফাল যুদ্ধবিমান।এক্ষেত্রে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কে একটি চিঠি লিখেন যেখানে তিনি জানান ফ্রান্সের সেনা ভারতীয় সেনার বলিদান জওয়ানদের পরিবার ও ভারতের পাশে আছে আর এই মুহূর্তে চীনের সাথে চলা এই উত্তেজনার মাঝে ফ্রান্সের এই বয়ান অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে বন্ধুত্ব যত দিন যাচ্ছে তত মজবুত হচ্ছে। আর চীন ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক ততটাই খারাপের দিকে এগোচ্ছে। তাছাড়া জাপান, রাশিয়ার মতো শক্তিশালী দেশ গুলিও এখন ভারতের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। এবং চীনের তরফ থেকে রাশিয়াকে ভারতের হাতে অস্ত্র তুলে না দেওয়ার জন্য মানা করা সত্ত্বেও রাশিয়া এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেনি। এখানেও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে চীন।এতদিন ধরে চীন তাদের আশেপাশে থাকা দেশগুলির জমি দখল করে নিত এবং যদি তার প্রতিবাদ করা হত তাহলে চীন তার শক্তি প্রয়োগ করতো।

তবে এবার চীনের সামনে ভারত। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফ থেকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারত কোনরকম উস্কানি মূলক কাজ করে থাকে না আগে থেকে, তবে কেউ যদি ভারতকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলে তাহলে ভারতও কিন্তু ছেড়ে দেবার পাত্র নয়।