আজ দুপুরের মধ্যেই প্রবল শক্তি নিয়ে স্থলভাগের আছড়ে পড়বে সুপার সাইক্লোন আমফান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা….

দেশজুড়ে করোনা মহামারীর আতঙ্ক আর তারই মধ্যে আবার এক নতুন আতঙ্কের নাম আমফান। যে আতঙ্ক দেশের একাংশে তৈরি করেছে নতুন উদ্বেগের। আর এই আতঙ্কের কারণে বহু মানুষকে এখন উপকূল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে। এ বিষয়ে আজ সকালে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর ও মৌসম ভবন দপ্তর এর তরফ থেকে যে খবর বেরিয়ে এসেছে সেখানে জানা যাচ্ছে দীঘা থেকে মাত্র 190 কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এই ঝড় আর অন্যদিকে ওড়িষ্যার পারাদ্বীপ থেকে 120 কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই ঝড়।

তবে যত সময় বাড়ছে ততই ঘূর্ণিঝড় নিজের তীব্র গতিবেগ ধারণ করছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে এই সুপার সাইক্লোন আমফান। শুধু তাই নয় যত বেশি শক্তি সম্পন্ন করছে এই সুপার সাইক্লোন কত এটি এক্সট্রিমলি সাইক্লোনে পরিণত হচ্ছে।আর এই বিষয়ে আবহাওয়াবিদদের তরফ থেকে যে তথ্য বেরিয়ে আসছে সেখানে জানতে পারা যাচ্ছে যেভাবে এই ঝড় টি এগিয়ে আসছে তার জেরে আজ দুপুরের মধ্যেই এটি স্থলভাগের আছড়ে পড়তে পারে।তবে শুধু তাই নয় আজ বুধবার দিন সকাল থেকে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু হয়ে গিয়েছে আর দুপুরে দিঘা হয়ে প্রবেশ করলেই শুরু হয়ে যাবে এই ঝড়ের তান্ডব।আর এই ঝড়ের প্রভাবে যে জায়গাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সে গুলির নাম আবহাওয়াবিদ দের তরফ থেকে প্রকাশিত করে দেওয়া হয়েছে যেগুলির মধ্যে রয়েছে কুলতলি, গোসাবা, বাসন্তী সহ উত্তর 24 পরগনা জেলার সন্দেশখালি,হাসানাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুরের মন্দারমনি দীঘা, তাজপুর, ইত্যাদির বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আর এই সুপার সাইক্লোন টি বাংলায় প্রবেশ করার সময় প্রতি ঘণ্টায় 155 থেকে 185 কিলোমিটার গতিবেগ ধারণ করবে।

যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বহু কাঁচা বাড়ি, তার পাশাপাশি অনেক বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এক্ষেত্রে।তবে শুধু তাই নয় এক্ষেত্রে ঝড় যদি বেশীক্ষণ জলভাগে দাঁড়িয়ে পড়ে তাহলে সেক্ষেত্রে প্রবল জোয়ার এবং জলচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মঙ্গলবার দিনেই জানিয়েছেন বুধবার দিন দুপুর বারোটার পর থেকে মানুষজন যাতে বাইরে না বের হয়। অর্থাৎ একপ্রকার বাড়িতে থাকতেই বলা হয়েছে সকল রাজ্যবাসীকে। দুর্যোগে পড়া মানুষদের উদ্ধার কাজের জন্য চালু করা হয়েছে একাধিক হেল্পলাইন নম্বর। তার পাশাপাশি খোলা থাকবে কন্ট্রোল রুমও। এর পাশাপাশি উপকূল এলাকা থেকে প্রায় 4 লক্ষের ও বেশি মানুষকে এখন অস্থায়ী ত্রান শিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নাসার তরফ থেকেও স্যাটেলাইট এর দ্বারা এই ঘূর্ণিঝড় আমফানের ইমেজ প্রকাশ করা হয়েছে।আর এই ব্যাপক ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন স্থানে রেললাইন ও রাস্তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকছে বলে জানানো হয়েছে পাশাপাশি ফসল ও বাগানেরও একাধিক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Related Articles

Close