যে হোটেলে বাবা করতেন সাফাই কর্মীর কাজ, আজ সেই হোটেলকেই কিনে নিজের নামে করলেন এই বলিউড তারকা

সুনীল শেট্টি, যাকে আমরা আন্না বলে চিনি। এই অভিনেতা চিরকাল সিনেমা জগতে অ্যাকশন হিরো হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন। আজ কোন পরিচয়ের অপেক্ষা রাখেন না তিনি। তবে সম্প্রতি কিছু সিনেমায় তিনি হাস্যকৌতুক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, সেখানেও দর্শকদের মন জিতে নিয়েছেন সুনীল শেট্টি। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই অভিনেতার আজ সম্পত্তি এবং খ্যাতির কোন অভাব নেই। তবে আজ তিনি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন, সেখানে আসতে বহু পরিশ্রম করতে হয়েছে তাঁকে।

সম্প্রতি একটি নাচের রিয়েলিটি শো ইন্ডিয়ান বেস্ট ডান্সার ২ নামক একটি রিয়েলিটি শোতে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর অতীত জীবন নিয়ে কিছু কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জীবন কখনোই সহজ ছিল না তাঁদের। তাঁর বাবা হোটেলে ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। তাই তাঁর বাবা তাঁর কাছে বিশ্বের সেরা নায়ক। তিনি সব সময় তাঁর বাবার জন্য গর্বিত বোধ করেন। তাঁর বয়স যখন ৯ বছর ছিল, তখন তাঁর বাবা মুম্বাইতে এসেছিলেন।

মুম্বাইতে ঝাড়ুদারের কাজ করতে কখনো লজ্জা বোধ করেননি সুনীল শেট্টির বাবা। কাজ ছোট হোক অথবা বড়, কোন কাজকেই ছোট বলে মনে করতেন না সুনীল শেট্টির বাবা ভিরাপা শেট্টি। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, সন্তানদেরও তা বিশ্বাস করাতে সাহায্য করতেন। তাই হয়তো সুনীল শেট্টি অভিনয় জীবনে প্রবেশ করার আগে যে ছোট ছোট হোটেলের কর্মচারী হিসেবে তাঁর বাবা কাজ করতেন, পরবর্তী সময়ে সেই হোটেল কিনে সেটির মালিক হন সুনীল শেট্টি। বাবার দেখানো পথে অগ্রসর হয়ে তিনি খ্যাতির শিরোনামে পৌঁছেছেন।

ছেলের শুটিং সেটে মাঝে মাঝেই আসতেন সুনীল শেট্টির বাবা, গর্ব ভরে দেখতেন ছেলের উন্নতি।সুনীল শেট্টির সাথে একই রিয়েলিটি শো এর মঞ্চে এসেছিলেন করিশমা কাপুর।সুনীলের বাবা প্রসঙ্গে কারিশমা কাপুরও বলেন, “এমন সদয় মানুষ খুব কম দেখা যায়। যতবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম,ততোবারই মন শ্রদ্ধায় ভরে গিয়েছে”।