Success Story: এক সময় যে SBI ব্যাঙ্কে ঝাড়ুদারের কাজ করতেন মহিলা, আজ সেই ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার

পুনের বাসিন্দা প্রতিক্ষা টন্ডওয়ালকার সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার আগে একজন ব্যাঙ্ক সুইপার ছিলেন। প্রতিক্ষার গল্প প্রমাণ করে যে, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় সংকল্পের সাথে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা যায়। ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণকারী প্রতিক্ষার জন্য এটি একদিনের অলৌকিক ঘটনা ছিল না। তাঁর সাফল্য কয়েক দশকের সংগ্রাম ও কঠোর পরিশ্রমের ফসল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রতিক্ষার বিয়ে হয়েছিল। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি তাঁর স্বামীকে হারিয়েছিলেন।

উপযুক্ত যোগ্যতা না থাকায় কাজ খুঁজে পেতে তিনি সমস্যায় পড়েন। প্রতিক্ষা তাঁর পরিবারকে সমর্থন করতে এবং তাঁর শিক্ষা সম্পূর্ণ করার জন্য এসবিআইতে ঝাড়ুদার হিসাবে কাজ শুরু করেন। এই সময় তিনি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যান। তাঁর নিষ্ঠার প্রমাণের পর তাঁকে সাফাই কর্মচারি থেকে কেরানি পদে উন্নীত করা হয়, তবে এই প্রক্রিয়া এখানেই থেমে থাকেনি। পরে তিনি স্কেল ৪, তারপর সিজিএম এবং অবশেষে এজিএমে উন্নীত হন।

প্রতিক্ষার দৃঢ় সংকল্প, নিষ্ঠা এবং আন্তরিক পরিশ্রমের কারণে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াও তাঁকে তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের জন্য সম্মানিত করেছে। নিজের অর্থের সাহায্যে প্রতিক্ষা মুম্বাইয়ের ভিক্রোলির নাইট কলেজে ভর্তি হন। অধ্যয়নের সময় তিনি তাঁর সহকর্মীদের থেকে সহযোগিতা পেয়েছিলেন এবং ১৯৯৫ সালে তিনি মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ব্যাংক ক্লার্ক পদে পদোন্নতি পান। প্রতিক্ষার অবসরের দুই বছর বাকি।

যদিও এসবিআইয়ের সাথে তাঁর ৩৭ বছরের কর্মজীবন সফল ছিল, তবুও তাঁকে এখনও অনেক পথ যেতে হবে। প্রতিক্ষা ২০২১ সালে একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা প্রোগ্রাম থেকে স্নাতক হয়েছেন এবং অবসর নেওয়ার পরে অন্যদের সাহায্য করার জন্য তাঁর শিক্ষা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছেন। যে দেশে ব্যাঙ্কিং পেশায় পুরুষের আধিপত্য, সেখানে প্রতিক্ষার গল্পটা অসাধারণ। নারী, যারা সাধারণত সামাজিক নিপীড়নের শিকার হয়, তাদের পরিবারের যত্ন নিতে এবং তাদের কর্মজীবনে অগ্রগতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এই কারণেই প্রতীক্ষার প্রশংসা হচ্ছে সর্বত্র।