সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল ভিডিও! করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করতে আসা স্বাস্থ্য কর্মীদের উপর পাথর বৃষ্টি স্থানীয়দের..

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আর এই সংক্রমণ রোধে কেন্দ্র সরকারের সাথে রাজ্য সরকার গুলি একের পর এক এর বড় পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। তবে এরকম এক পরিস্থিতি তে এমন ঘটনা ঘটল যা সকলকে তাজ্জব করে দেওয়ার মতো। যেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা খবর পেয়েছিলেন একব্যক্তি করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছেন এবং তার জন্য তারা সেই ব্যক্তির খোঁজ খবর নিতে তড়িঘড়ি করে উত্তরপ্রদেশে ইন্দোরের তাত পাত্তি বাখাল এলাকায় হানা দেন।

তবে সেখানে থাকা হয় বেশ কিছু স্থানীয়দের প্রথমে সে বিষয় নিয়ে সন্দেহ হয় এবং স্থানীয়রা জানতে চান কেন স্বাস্থ্যকর্মীরা সেই ব্যাক্তির খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তাই সেই বিষয়ে আসল সত্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্যকর্মীরা সেই স্থানীয়দের কাছে, এবং তারা ভাবেন স্থানীয়রা হয়তো তাদের সুরক্ষার স্বার্থে সেই ব্যক্তিকে খুঁজতে সাহায্য করবে, তবে তাদের এই ভাবনা কিছুক্ষণের মধ্যে উল্টো প্রকাশিত হলো। যখন সেই ব্যক্তিকে কেন খোঁজা হচ্ছে তার কারণ বলা হলো তা বলামাত্রই বদলে গেল সেখানকার পরিস্থিতি।

স্থানীয়রা প্রায় সকলের উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা ওই ব্যক্তিকে খোঁজার সাহায্য তো দূরের কথা, তার পরিবর্তে যে স্বাস্থ্যকর্মীরা তার খোঁজখবর নিতে এসেছিল তাদের ওপর হামলা চালাতে শুরু করে দেয় সেখানকার স্থানীয়রা। প্রথমে সেখানে থাকা পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মীদের দিকে ধেয়ে আসে সেখানকার স্থানীয়রা কারও হাতে থাকে লাঠি, কারো হাতে থাকে কাচের বোতল আবার কিছু স্থানীয় পাথর ছুড়তে শুরু করে তাদের ওপর। আর সেখানে থাকা দুই মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীর উপর অকথ্য অত্যাচার ও করা হয়। সেই স্বাস্থ্য কর্মীদের অভিযোগ এলাকায় থাকা যুবকেরা পাথর ছুড়তে শুরু করে ফলে বাধ্য হয়ে তারা দৌড়ে পালানো সেখান থেকে।

এবং ঘটনাক্রমে একটি গাড়ির পেছনে লুকিয়ে তারা নিজেদের প্রাণ বাঁচান।তবে স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে এরকম এক ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে জড়ো হয় পুলিশ এবং সঙ্গে সঙ্গে বিশাল পুলিশবাহিনীও ওই এলাকায় পৌঁছে যায়। তারপর সেখানকার ক্ষিপ্ত জনতাদের সামাল দেন সেই পুলিশ বাহিনী। এবং গাড়ির পেছনে লুকিয়ে থাকা বা গাড়ির ভিতর লুকিয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্ধার করেন সেখান থেকে পুলিশেরা।এখন প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী জানতে পারা গেছে এই স্বাস্থ্যকর্মীর দলের মধ্যে থাকা নিয়ে পাঁচ জন স্বাস্থ্য কর্মী আহত অবস্থায় রয়েছেন আর যে দুই মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীরা ছিলেন তাদের পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে।

এরকম এক ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিমেষে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক টুইট হতে শুরু করে এই বিষয়টিকে নিয়ে।অনেকেই বলতে শুরু করেন করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে শুধুমাত্র সুস্থ করে তোলার আশায় যারা প্রাণের ঝুঁকি নিচ্ছেন তাদের ওপর এরকমভাবে হামলা করা সত্যিই নিন্দনীয় ঘটনা। এ বিষয়ে ইন্দোরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমণের সম্ভাবনা দূর করতে কাজ করছিলেন পরিবর্তে তাদের ওপর এই হামলা চালিয়েছে সেখানকার এলাকাবাসী।

এছাড়া বারবার যখন স্বাস্থ্য কর্মী এবং প্রশাসনিক অধিকারী তরফ থেকে বলা হচ্ছে তথ্য গোপন না করতে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা কথা দ্রুত জানাতে এবং ওষুধ-পত্র খাওয়া-দাওয়া সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তখন কীভাবে এরকম এক করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি লুকিয়ে বসে থাকতে পারে।আর এই ভিডিওটি আবারো প্রমাণ করে দিচ্ছে দেশজুড়ে যেভাবে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে সরকারের তরফ থেকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে গোটা দেশবাসীকে সচেতন থাকতে বলা হচ্ছে সেটা যেন এখনো ফুটে উঠেনি কিছু মানুষের অসাবধানতার কারণে।

Related Articles

Close