পয়লা এপ্রিল থেকে নতুন প্রকল্প শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার, এবার থেকে 60 বছর হলেই মিলবে পেনশন..

গতবারের বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তপশিলি জাতি উপজাতি মানুষদের জন্য পেনশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। আর সেই ঘোষণা অনুযায়ী এবার 60 বছর হলেও তপশিলি ব্যক্তিদের 1000 টাকার বার্ধক্য ভাতা দেবে রাজ্য সরকার এমনটাই ঘোষণা করা হয়েছে এছাড়াও 60 বছর বা তার বেশি আদিবাসী ব্যক্তিদেরকে তো পেনশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী মাস অর্থাৎ পয়লা এপ্রিল থেকে এই নতুন প্রকল্প চালু হবার কথা বলা হচ্ছে সেই মতো যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু হয়েছে এর সমস্ত কাজ। ইতিমধ্যে 60 বছরের উপরে যে সব তপশিলি জাতি উপজাতিরা রয়েছেন তাদেরকে 1000 টাকা করে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ ইতিমধ্যে জেলাশাসক দেওয়া হয়েছে। মূলত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণাটি এই কারণেই করেছেন যাতে যেসব ব্যক্তির পেনশন পান না তাদের জন্য মাসে 1000 টাকা করে বার্ধক্য ভাতা পেতে পারে। চলতি মাসেই 3 ই মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালিয়াগঞ্জ থেকে ওয়ান আম্ব্রেলা স্কিম- জয়বাংলার ঘোষণা করেছিলেন।

আর তারই সাথেই তিনি তপসিলি জাতি ভুক্ত যে সব মানুষেরা 60 বছরের উপরে রয়েছে তাদের জন্যে “তপসিলি বন্ধু” এবং তপশিলি উপজাতি ভুক্ত যে সব মানুষেরা 60 বছরের উপরে রয়েছে তাদের জন্য “জয় জহার”- নামে প্রকল্পের ঘোষণা করেন। অর্থাৎ এই প্রকল্পের সাহায্য সে সব মানুষদের হাজার টাকা করে সহযোগিতা করা হবে প্রত্যেক মাসে। আর যে সব মানুষেরা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে 600 টাকা থেকে 750 টাকা পেয়ে থাকেন তারাও এবার পয়লা এপ্রিলের পর থেকে 1000 টাকা করে পেনশন পাবেন।

Advertisements

মুখ্যমন্ত্রীর এরকম ঘোষণার পরই ইতিমধ্যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে অর্থ দপ্তরের তরফ থেকে ও।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন এই নতুন দুই প্রকল্পে যাতে তপশীল জাতি ও উপজাতির সকলেই অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আর সেই জন্য অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করা হয়েছে আর তার জন্য জেলা শাসকের কাছে ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে নির্দেশিকা। এক্ষেত্রে পেনশন দিতে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে 2,200 কোটি টাকা, নির্বাচনের মুখে 18 লক্ষ তপশিল জাতি ও 4 লক্ষ তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের কে 1000 টাকা করে পেনশন দেওয়া হবে।

Advertisements

তবে যেমনটা আমরা জানি বছর ঘুরলেই এবার রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন আর গতবার লোকসভা নির্বাচনে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল তপশীল জাতি উপজাতি এলাকায় ভালো ফল করেছিল বিজেপি। বিশেষ করে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং জঙ্গলমহল সহ সমস্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ভালো ফল করেছিল বিজেপি। তাই এরকম এক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে কার্যত সমস্ত মানুষের জন্য পেনশন ঘোষণা করে মাস্টারস্টোক দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।