বাড়ি থেকে কাজ, 50 শতাংশ সরকারি অফিসে হাজিরা!করোনা মোকাবেলাতে 10 দফা নির্দেশিকা জারি রাজ্য সরকারের

অন্যান্য দেশের ন্যায় ভারতবর্ষেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। মুম্বাই ইতিমধ্যেই লকডাউনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুম্বাইয়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও করোনার গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। তাই এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ লকডাউনের পদক্ষেপ না নিলেও করোনার সংক্রমণকে কমানোর জন্য বেশকিছু নির্দেশিকা জারি করেছে। করোনার প্রথম সংক্রমনের সময় এই নির্দেশিকাগুলি রাজ্যে চালু হয়েছিল আবারো সেই নির্দেশিকায় সাহায্য নিল রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তর।

 

গত ২৪ ঘন্টায় পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ৭৭১৩ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন৷ এর সাথে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে আমাদের রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি খুবই সংকটজনক হয়ে উঠছে। আর করোনার মত মারণ ভাইরাসকে রোধ করার জন্য এবার ১১দফা নীতি জারি করল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার।

 

১. মানুষের সমাগমের জায়গা অর্থাৎ গণপরিবহন গুলিতে চড়তে গেলে প্রতিটি মানুষকে ব্যবহার করতে হবে মাস্ক এবং স্যানেটাইজার। এছাড়াও তাদের মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব। এই বিষয়গুলোতে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের উপর।

 

২. সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস এমনকি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলিতেও সপ্তাহে একবার করে স্যানিটাইজ করতে হবে।

 

৩. ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে সমস্ত বাজারগুলিতে স্যানেটাইজ করা হবে।

৪. দোকান, বাজার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানুষের ভিড় কমানোর জন্য কাজের সময় ভাগ করে দিতে হবে ।

৫. রাজ্যের সরকারি অফিসগুলোতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কর্মীদের অফিসে আনতে হবে। ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়েই প্রতিদিন কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার৷

৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাড়ীতে বসেই কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন।

৭. কর্মস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদেরকে দায়িত্ব ভার দেওয়া হয়েছে যাতে কর্মীরা মাস্ক পরেন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন৷

৮. রাজ্যের বিভিন্ন শপিং মল, মাল্টিপ্লেক্স, হোটেল, রেস্তোরাঁতে আগের মতোই প্রবেশ এবং বাইরে যাওয়ার পথে স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মাল স্ক্যানিং-এর ব্যবস্থ্যা বাধ্যতামূলক করা হল৷

 

৯. রাজের সরকারি বেসরকারি অফিসগুলোতেও স্যানেটাইজ করতে হবে সপ্তাহে একবার করে।

 

১০. করোনার প্রথমবারে স্টেডিয়াম এবং সুইমিং পুলগুলির জন্য তেমন বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছিল। ওই নিয়মই এখন মানুষজনদের মানতে হবে।

 

পরিশেষে বলা আছে এই বিধিনিষেধ যদি কোনো ব্যাক্তি না মানেন তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্ৰহণ করবে প্রশাসনিক মহল।