সরকারি কর্মীদের টাকা ‘মেরে’ বেতন বৃদ্ধির ঘোষনা রাজ্যের! উঠছে এই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন..

সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করার ঘোষণায় আসলে রাজ্য সরকারি লাভবান হচ্ছে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভমেন্ট এমপ্লয়িজ। তাদের বক্তব্য, বাড়তি খরচ নয়, বেতন কমিশন কার্যকর করতে’ রাজ্য সরকারের একটি পয়সাও খরচ হচ্ছে না রাজ্যের। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে জানিয়েছেন,” গত 13 তারিখ নেতাজি ইন্দোরে মাননীয়া বেতন কমিশনের একটি অস্পষ্ট রিপোর্ট পড়ে শুনিয়েছেন।

সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, নয়া বেতন কমিশন লাগু করার জন্য সরকারের 10 হাজার কোটির কিছু বেশি টাকা খরচ হবে। অর্থাৎ কত টাকা খরচ হবে তার হিসাব তিনি আগেই করে এসেছেন। এই কনফেডারেশন বলে, বেতন দিতে সরকারের এখন আপাতত একটি পয়সাও খরচ হবে না বরং 10 হাজার কোটি টাকা খরচ হওয়ার পরও সরকারের পাঁচ হাজার কোটি টাকা বেঁচে যাবে। এই কথাটি শুনে আপনি অবাক হয়ে গেলেন তো?

হ্যাঁ এটি আসলে অবাক হওয়ারই ঘটনা। এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে এই সংগঠন।এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন,” সরকারের এই ভাওতাবাজি মুখ বুঝে সহ্য করলে আমার ক্ষতি। এমনকি আগামী প্রজন্মের জন্য ক্ষতি। আপনারা এই সত্য যাচাই করার জন্য ফিন্যান্স এর ওয়েবসাইটে গিয়ে বাজেট প্রিভিউ বাজেট পাবলিকেশন নম্বর 9 এ গিয়ে দেখুন।

একটি উদাহরণ দিয়ে মলয় বাবু বলেন,” 2012-13 অর্থবর্ষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন খাতে সরকার মোট 40766.95 কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। অর্থাৎ এর দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ওই টাকা সরকারের দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু সরকার তা দেয়নি। কারণ ওই অর্থবর্ষে সরকারের Revised Budget এ খরচ হয়েছিল মোট 39,786.87 কোটি টাকা। এবং নির্দিষ্ট খরচ হয়েছিল 39,979. 06 কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে সরকারের লাভ হয় 1387.89 কোটি টাকা।”

এছাড়াও তিনি আরো বলেন,” 2012-13 থেকে 2017-18 অর্থবর্ষে আমাদের না দেওয়া টাকার পরিমাণ হলো 15,129.17 কোটি টাকা। তাহলে আমাদের প্রশ্ন সরকারের এমন সঞ্চয় কোথা থেকে হয়ে গেল? এর কারণ তিনি খুঁজে বের করে বলেন – প্রথমত,তিনি বলেন নির্দিষ্ট সময়ে মহার্ঘভাতা না দেওয়া। দ্বিতীয়ত, ঠিক সময়ে প্রমোশন না দেওয়া। তৃতীয়ত,স্থায়ী পদে কর্মী নিয়োগ না করা। তাহলে আমরা এটা বলতেই পারি যে সরকার আমাদের টাকা জমিয়ে সেই সঞ্চিত অর্থ দিয়ে আমাদের বেতন কমিশন লাভ করছে। এরপরেও বাকি 5 হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা রয়েছে।”

Related Articles

Back to top button