প্রায় ৫০ লক্ষ-শূন্য পদে কর্মী নিয়োগ করবে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ,চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ, জানুন বিস্তারিত

এই অতিমারি সময়ে অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে যাচ্ছে সমগ্র দেশ। চারিদিকে শুধু বেকারত্ব আর বেকারত্ব। এমন পরিস্থিতিতে চাকরি প্রার্থীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ !বড়সড় আশার কথা শোনালো স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অর্থাৎ SBI । এতদিন যারা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে খুঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তাদের জন্য আসতে চলেছে একটি বড়সড় সুযোগ। আজকাল দেশে আনএম্প্লয়মেন্ট এত বেড়ে যাচ্ছে ফলে যুবক-যুবতীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে । করোনা পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন চাকরি চলে যাচ্ছে অন্যদিকে কর্মসংস্থানের অভাবের ফলে বেকারত্ব বাড়ছে ।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সময়মতোই রিক্রুটমেন্ট হচ্ছে না । এরকম পরিস্থিতিতে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া পক্ষ থেকে একটি পদক্ষেপ নেওয়া হল। প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি শূন্যপদ নিয়ে আসতে চলেছে এই ব্যাংকটি। দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া তাদের নিজস্ব সমীক্ষাতে বলা হয়েছে যে এই বছর অর্থাৎ ২০২১- ২২ থেকে তারা তাদের অর্থের ব্যবস্থা আগের থেকে অনেক শোধরাবে। পরিবর্তন আনা হবে বেশ কিছু। বর্তমান করোনা-কালীন পরিস্থিতি সামলে উঠার পর শুন্যপদে নিয়োগ নিয়ে ভাবনাচিন্তা নতুন করে করা হবে বলে ব্যাংকে তরফ থেকে জানা যাচ্ছে।

সংস্থাটি কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে বেশ কিছু পদক্ষেপ নতুন নিতে চলেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে অর্থনীতিবিদেরা EPF ও NPS মাসিক বেতনের ক্রমাঙ্ক ধরে এই কথা ভাবছেন। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যতে অর্থব্যবস্থার শ্রম বাজারের গতিবিধি আরো ভালো হবে এমনটাই দাবি সংস্থার । মুখ্য অর্থনীতিবীদ সৌম্যকান্তি ঘোষের এ ব্যাপারে একই অভিমত। চলতি অর্থ ব্যবস্থায় আরো উন্নতি হতে চলেছে। আগামী দিনে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বর্তমানে মানুষরা যেরকম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাতে এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের রোজগারের আশার আলো দেখা যাবে। যেখানে করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় আবহে বিপুল বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে তাতেই শূন্যপদ নিয়োগে অনেকটাই ক্ষতের প্রলেপ পড়বে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপুল হারের মানুষের চাকরি চলে গেছে। ফলে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে । সম্প্রতি হিসেব মতো ভারতে প্রায় ১৫ লক্ষ সাধারন মানুষের চাকরি চলে গেছে। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি এবং সিএমআইই রিপোর্ট থেকে এমনই তথ্য জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ গ্রামীণ এলাকায় কাজ করেন । এই হিসেব শুধুমাত্র আগস্ট মাসের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

সৌম্যকান্তি ঘোষ এর দাবি বর্তমানে প্যারোলে নিয়মিত রোজকার এর অনুপাত হল প্রায় ৫০ শতাংশ। এই সমীক্ষার হিসেব অনুযায়ী প্রতি দুজনের মধ্যে একজন নিয়মিত চাকরি জোগাড় করেছেন ।বর্তমান চলতি অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০২১-২২ আগের থেকে পরিস্থিতি প্রায় ৪৭ শতাংশ রয়েছে।এছাড়াও স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বর্তমান রিপোর্ট অনুযায়ী জুন মাসে যে ত্রৈমাসিক রিপোর্ট প্রকাশ হয় তাতে দেখা গেছে প্রায় ৩০.৭৪ লক্ষ চাকরির ভেকেন্সি হয়েছে।

যার মধ্যে প্রায় ১৬.৩ লক্ষ নতুন চাকরি। বর্তমান স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার দাবি যদি এইরকমই গতিবেগ বজায় থাকে তাহলে চলতি অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থব্যবস্থায় প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের নতুন চাকরি হতে পারে। যা আগের অর্থবর্ষের চেয়ে বেশ অনেকটাই বেশি। আগের অর্থবর্ষে সংখ্যাটি ছিল ৪৪ লক্ষ(২০২০-২১)।