৮০ টাকা থেকে ব্যাবসা শুরু করে আজ ১৬০০ কোটি টাকার মালিক! সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে পদ্মশ্রী প্রাপ্ত যশবন্তীবেনের জীবন কাহিনি

এটি প্রায় ছয় দশক আগের ব্যাপার। ১৫ মার্চ ১৯৫৯, দক্ষিণ মুম্বাইয়ের সাতজন মহিলা একটি ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যে তারা পাঁপড় বানিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করবে। এভাবেই শুরু হয়েছিল লিজ্জাত পাপড়ের পথ চলার যাত্রা। এই উদ্যোগ এর মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন যশন্তিবেন যমুনাদাস পোপাট। সেই যাত্রায় তার সাথে সঙ্গী ছিলেন দোসর পার্বতীবেন রামদাস ঠোবানি, উজমাবেন নারায়ণদাস কুড্ডলিয়া প্রমুখ। যশন্তীবেন বাদে মোট সাতজন, মানে সেই দলে ছিলেন মোট আটজন সদস্য। তবে কীভাবে বার্ষিক টার্নওভার, বাজার গবেষণা, ব্যবসা বৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা ছিল না।  কারোরই ব্যাবসা নিয়ে তখন কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না বললেই চলে। পারিবারিক খরচের পাশাপাশি মাত্র ৮০ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করা, আপনি কি জানেন যে ছয় দশক পরে সেই ব্যবসার বর্তমানে বছরে টার্নওভার কত? ১৬০০ কোটি টাকা হা ঠিকই শুনেছেন, সেই পাঁপড় কোম্পানির বাৎসরিক টার্নওভার এখন ১৬০০ কোটি টাকা। দলের সমস্ত মহিলাদের নাম থেকেই বুঝতে পারছেন, এই ব্যবসাটি গুজরাটি মহিলারা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ব্যবসার অগ্রগতির সাথে সাথে কর্মচারী ও শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই, ব্যাবসার সদস্যরা আর গুজরাতিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সর্বস্তরের নাগরিকরা এই ব্যবসার অংশীদার হয়েছেন। ব্যবসাও বাজারে চলছে জমজমাট ভাবে। আজ লিজ্জত পাঁপড় এর নাম ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। কিন্তু আপনি কি জানেন এই ব্যাবসার উৎপত্তি কীভাবে শুরু হল? যশন্তীবেন এবং তার সহযোগীদের কেউই খুব একটা পড়াশোনা জানতেন না। ব্যবসার চিন্তাভাবনা আর ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তার কোনো কিছুই তাদের ছিলনা বললেই চলে, কিন্তু কীভাবে তারা সফলতার পেলেন?

কথিত আছে যে এই আট মহিলা তাদের রান্নার কৌশল কে অস্ত্র বানিয়ে ব্যবসায় নেমেছিলেন। নিজের ঘরের কাজ নিজে সামলে আবার ব্যবসা করা বেশ খানিকটা সমস্যা ছিল। তাই বাধ্য হয়েই এই মহিলারা ব্যাবসাকে পার্টটাইম ব্যবসা হিসাবে শুরু করে। এই মহিলারা তাদের অবসর সময়ে পরিবারের কাজ সেরে পাঁপড় তৈরি করতেন বাড়তি কিছু টাকা রোজগার করার জন্য।

লিজ্জত মানে গুজরাটি ভাষায় বোঝায় সুস্বাদু। লিজ্জতের পাপড় বিক্রয় – অর্থাৎ সফল নামকরণ। আগে এই নারীরা অনেক পরিমাণে পাপড়ি বানাতে পারত না। তারা দিনে মাত্র চারটি প্যাকেট তৈরি করে বিক্রি করতে পারতেন। পাপড়ের গুণমান ও স্বাদের কারণে ধীরে ধীরে এই পাপড় এর পরিচিতি বৃদ্ধি হয়।

আপনি কি জানেন যে আজ সেই ব্যবসা ১৬০০ কোটি টাকার এককালে পাপড়ের ব্যবসা শুরু হয়েছিল মাত্র ৮০ টাকা দিয়ে। আজকের এই অবস্থার জন্য মহিলারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তারা ৮০ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে আজ সেই ব্যবসা বড়ো ব্যবসা হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রচুর টার্নওভার। যশবন্তীবেনও এ বছর তার এই পাপড় ব্যবসার জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতির থেকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।