মুকুলকে টেক্কা দিতে গিয়ে শোভনকে দলে টেনে এনে এবার মুখ পোড়ালেন দিলীপ ঘোষ! ক্ষুব্ধ দিল্লির নেতৃত্বগন..

লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল দল থেকে ভাঙিয়ে অনুপম হাজরা, অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, ভারতী ঘোষকে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন মুকুল রায়। আর তার জেরে মুকুলের সুনাম হয়েছিল বিজেপি অন্দরমহলেও। তবে তার পরই ক্রমশ চাপ বাড়ছিল বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উপর। যার দরুন মুকুল রায় কে টেক্কা দিতে দলে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় কে ডেকে আনেন দিলীপ ঘোষ। আর এখানেই ভুল করে ফেললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

কারণ এবার শোভন কে দলে ধরে রাখতে পারলেন না দিলীপ। এতে ক্ষুব্ধ দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্বগন, ইতিমধ্যেই এই নিয়ে জমা পড়েছে গুচ্ছেক নালিশ।কারণ রাজনীতি দলের অন্দরেই থাকে প্রতিযোগিতা একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সেখানে নেতা- মন্ত্রীরা আর এটাই স্বাভাবিক, যা বহুকাল ধরেই চলে আসছে। তবে এবার সেই ঝাঁপিয়ে যেতে গিয়েই গোল খেলেন দিলীপ ঘোষ। ইতিমধ্যে দল থেকে সদস্য ভাঙ্গানো খেলায় মাষ্টারি লাভ করে ফেলেছেন মুকুল রায়।

লোকসভা ভোটের আগেই মুকুল রায় যাদের এনেছিলেন তাদের মধ্যে নিশীথ প্রমানিক, সৌমিত্র খাঁ, অর্জুন সিং এখন বর্তমান সাংসদ। তবে অন্যদিকে ভারতী ঘোষ ঘাটালে হারলেও বিরোধী পক্ষকে অনেকখানি লড়াই ছুঁড়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন। আর তারপরই নিজেদের কে প্রমাণ করার তাগিদে শোভনকে তৃণমূল থেকে ভাঙ্গিয়ে আনার পরিকল্পনা করেন দিলীপ ঘোষ ও জয়প্রকাশ মজুমদার। তবে যা জানতে পারা গেছে প্রধানত জয় প্রকাশই এই উদ্যোগ নেন। তারপর শোভন চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

পরবর্তীকালে দিল্লিতে গিয়ে গেরুয়া শিবিরের নাম লেখান শোভন-বৈশাখী। তবে শোভন চট্টোপাধ্যায় দলে আসার পর থেকেই লক্ষ্য করা যায় বিজেপির মধ্যে জেরবার। দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে থাকে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় কে, যাকে দিল্লিতে এনে যোগদান করাতে হবে। এমনকি অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন যে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় কতদরের নেত্রী যে তাকে দিল্লিতে আনা হয়েছে। তবে সেই সময় দিলীপ ঘোষ সেই সময় শোভনের সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছিলেন। তবে দলে দেবশ্রী রায় কে দেখে বেঁকে বসেন শোভনবাবু, এই নিয়ে রাজ্য বিজেপিকে তিনি পাল্টা মন্তব্য ছুঁড়ে দেন বলেন দেবশ্রীকে নিলে এই দলের পক্ষে তার কাজ করা সম্ভব হবে না।

শুধু তাই নয় এই নিয়ে দিল্লিতে গিয়েও কথা বলে আসেন শোভন-বৈশাখী।তবে রাজ্য বিজেপি তরফ থেকে পাল্টা মন্তব্য করা হয় ব্যক্তিগত আপত্তি থাকলেও থাকতে পারে তবে দলের ক্ষেত্রে এসব যেন উর্ধে থাকে। তারপর থেকেই শোভন- বৈশাখী কে বিজেপির দলীয় অনুষ্ঠানে আর দেখা যায়নি। এমন কী যখন রাজ্যে অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডারা আসেন তখনও শোভন-বৈশাখী বেপাত্তাই ছিলেন। তবে ভাইফোঁটার দিন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে যান শোভন- বৈশাখী। রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরে যে শোভন কে কততা স্নেহ করেন দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা আবারো পরিষ্কার হয়ে যায়।

তবে আবার যে শোভনবাবু তৃণমূলে যোগদান করতে পারেন সে কথা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আরো বলে রাখি নারদাকান্ডে অভিযুক্তদের মধ্যে নাম রয়েছে এই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আর সেই কারণে বিজেপি দলের মধ্যে শোভনকে নেওয়ার মানে হল নারদার হাতিয়ারকে ভঙ্গ করে দেওয়া।প্রাক্তন মেয়র কে নিয়ে এইভাবে টানাহ্যাচরা করাতে মুখ পুড়েছে দলের। যেটাকে ভালো চোখে দেখছে না দিল্লির নেতৃত্বগন। ফলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলিপের ওপরেও বেশ খানিকটা ক্ষুব্ধ রয়েছে নেতৃত্বগন। তবে এক্ষেত্রে দিলীপ একথা মানতে নারাজ তার যুক্তি রাজনৈতিক মহলে এমন ঘটনা প্রায়ই হয়ে থাকে।

Related Articles

Back to top button