কলকাতানতুন খবরবিশেষ

মেয়ে সানার “রাজনৈতিক পোস্ট” নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলির দিলেন এই বড় বয়ান! বললেন আপনারা ওকে…

এই মুহূর্তে বাংলা দাদা সৌরভ গাঙ্গুলীর মেয়ে সানার করা রাজনৈতিক পোস্টকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোড়ন। অবশেষে এরকম এক পরিস্থিতি সামল দিতে মাঠে নামতে হল স্বয়ং দাদাকে। কিছুদিন আগে সৌরভ গাঙ্গুলির মেয়ে সানা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রতিবাদের জেরে খুশবন্ত সিংহ কে উদ্ধৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায়, আর তারপরই তার করা এই পোস্টকে নিয়ে উত্তাল শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে।

তবে এইবার পরিস্থিতি বুঝে মাঠে নামতে বাধ্য হলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, তার বক্তব্য তার মেয়ে সানা এখন খুবই ছোট তাই রাজনীতির সম্পর্কে জানার বিষয় ও তার মেয়ে এখন ছোট, তাই এই দিন মহারাজ তার মেয়েকে রাজনৈতিক কোনো ব্যাপারে না জড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন সকলকেই। গত বুধবার দিন দুপুরে সানার করা এই রাজনৈতিক পোস্টটিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তুমুল ঝড়ের, যদিও পরে এই পোস্টটিকে সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু তার করা এই পোস্টটি যে এখন আলোচনার ভারকেন্দ্র হয়ে উঠেছে তা বুঝে উঠতে বেশি অসুবিধা হয়ে ওঠেনি বাবা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এর কাছে।

তাই তিনিও বাধ্য হয়ে মাঠে নামেন, এইদিন টুইট করে তিনি জানান আপনারা এইসব বিষয় থেকে সানাকে দয়া করে দূরে রাখুন এই পোস্টটা সত্যি নয় রাজনীতি কিছু সম্পর্কে জানার ব্যাপারে ও এখন খুবই ছোট।
তবে যেমনটা আমরা দেখতে পাচ্ছি নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাস হওয়ার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় চলছে বিক্ষোভ প্রতিবাদ।এমন কী রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমে দেখানো হচ্ছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। আবার কোথাও কোথাও আছে রে শুরু হয়েছে অশান্তির।

তাই এরকম এক পরিস্থিতিতে সৌরভ কন্যার করা এই পোস্ট তো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ারই ছিল।তবে এখন প্রশ্ন সৌরভ কন্যা কী লিখেছিলেন এই পোস্টে,তো বলে রাখি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি হিসাবে পোস্ট করতে গিয়ে সৌরভ কন্যা সানা 2003 সালে প্রকাশিত খুশবন্ত সিংহের ‘দ্য এন্ড অব ইন্ডিয়া’কে বেছে নিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল প্রতিটা ফ্যাসিস্ত সরকারের একটা দল বা গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয় নিজেদের বেড়ে ওঠার জন্য তারা ওই দল বা গোষ্ঠী কে ব্যবহার করে ও তাদের শয়তানে পরিণত করে।

তবে সেটা এখানেই শেষ হয়ে যায়না, তা ঘৃণার উপর নির্ভর করে যে আন্দোলন সে আন্দোলন নিজেকে ধরে রাখতে পারে অবিরাম একটা ভয় বা দ্বন্দ্বের বাতাবরণ তৈরি করে।তবে যে এখানেই থেমে গেছেন সৌরভ কন্যা তাও নয় এরপরও কিছু অংশ পোস্ট করেছেন যেখানে লেখা রয়েছে আজ আমরা যারা নিজেদেরকে নিরাপদ বলে মনে করছি আর ভাবছি আমরা তো মুসলমান বা খ্রিষ্টান নয় তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছি। সংঘ ইতিমধ্যেই বামপন্থী ইতিহাসিক বিদ ও পশ্চিমী সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী যুবসমাজকে টার্গেট করছে।

আর কাল তাদের ঘৃণা গিয়ে পড়বে স্কার্ট পরিহিত মহিলা, যারা মদ্যপান করেন, যারা মাংস খান, যারা দাঁতনের পরিবর্তে টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, এমন কী যারা বিদেশি সিনেমা দেখেন,এমনকি একে অপরের সাথে দেখা হওয়ার সময় জয় শ্রীরাম বলার বদলে হাত মিলান কিংবা চুম্বন করেন তাদের ওপর। তাই কেউই নিরাপদ নয়। ভারতে বাঁচতে হলে এগুলি আমাদের ভীষণভাবে অনুধাবন করতে হবে। এরই সাথে সৌরভ কন্যা সানা জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ ধরে দেশের কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিক্ষোভ- প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠছে তার একটি মানচিত্রও পোস্ট করেন তিনি।

আর তারপরই সৌরভ কন্যা সানার এরকম এক পোস্টের জেরে বহু আলোচিত হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে।অনেকেই তার করা এই পোস্টটিতে যেভাবে খুশবন্তের লেখার মাধ্যমে সমাজের বাস্তব পরিস্থিতিকে তুলে ধরেছেন তার জেরে বহু প্রশংসিত হয়েছেন, যদিও এর পাল্টা অভিযোগের কিছু ব্যক্তি উল্লেখ করে বলেন যে সানার বয়স এখন খুবই ছোট রাজনীতি করার জন্য।তবে এই বিষয়ে আরো কিছু ব্যক্তি নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন এবং মনে করে দেন ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী যে কোন ভারতীয় নাগরিক 18 বছর হওয়ার পরই ভোট দান করতে পারেন আর সে ক্ষেত্রে সানার বয়স 18 বছর পেরিয়ে গেছে।

তবে এখনো পর্যন্ত একটা বিষয় লক্ষ্য করা গেছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে তিনি সবসময়ই রাজনৈতিক আঙিনা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন এমনকি যেকোনো রাজনৈতিক প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য তার মুখ থেকে শোনা যায়নি তাকে।

Related Articles

Back to top button