রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আসতে পারে আমূল পরিবর্তন, অনিশ্চিত নতুন শিক্ষাবর্ষ- বড় ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর..

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ব্যবস্থা এবার বদলে যেতে চলেছে করোনা আবহের জেরে, তবে এক্ষেত্রে নতুন করে শিক্ষাবর্ষ চালু না হলেও বাড়ি থেকে ফাইনাল বছরের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে চলেছে রাজ্য। গতকাল এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে উপাচার্যদের বৈঠকে সর্বসম্মতি ক্রমে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেভাবে করোনা সংক্রমণ রাজ্যজুড়ে বেড়ে চলেছে তার জেরে গতকাল উপাচার্য সহ-উপাচার্য দের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

আর সেই বৈঠকে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে। যেখানে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে আগামীদিনে কীভাবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলি বাড়ি থেকে পরীক্ষা নিতে পারে। যেখানে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে এসেছে শুধুমাত্র ফাইনাল সেমিস্টারে 50 পার্সেন্ট পরীক্ষা নেওয়া যায় কীনা তা নিয়ে, শুরু হয়েছে একাধিক চর্চা। বাকি 50% আগেও সেমিস্টারের নম্বরের ভিত্তিতে দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়েও শুরু করা হয়েছে আলোচনা।

যদিও এখনো পর্যন্ত এই বিষয়টিকে চূড়ান্ত বলে অনুমোদন করা হয়নি প্রথমে সমস্ত কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে আর তারপর এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতির কথা ভেবে নতুন করে শিক্ষাবর্ষ নিয়ে কোনোরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না ফলে শিক্ষাবর্ষ নতুন করে কবে থেকে শুরু হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক অনিশ্চিয়তা।

তাছাড়া রাজ্যে যেভাবে করোনা সংকটের হার দিন দিন বেড়ে চলেছে তার জেরে আপাতত জুলাই মাস পর্যন্ত সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।তাছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করার পরও এখনও নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কবে ফলাফল প্রকাশ করা হবে কিংবা কবে নতুন করে তাদের ভর্তি করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কলেজে তা নিয়েও একাধিক চিন্তাভাবনা করা শুরু করা হয়েছে। যদিও গতকাল যে বৈঠকটি করা হয় সেখানে মূল বিষয় ছিল ফাইনাল সেমিস্টার এ কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে সেই বিষয়ে।

যেখানে প্রাথমিকভাবে যে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে এসেছে সেখানে বলা হচ্ছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু 50% নম্বর ফাইনাল সেমিস্টারের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পরীক্ষা হিসেবে নেওয়া হবে। আর বাকি 50 পার্সেন্ট ইন্টারনাল অ্যাসাইনমেন্ট বা অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়ে নেওয়া হবে। তার পাশাপাশি এই নিয়ে চর্চা চলছে কীভাবে কলেজ- বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলি বাড়ি থেকেই নিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে এখন আলোচ্য বিষয় ফাইনাল সেমিস্টার পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে করা হলেও বাকি যে পরীক্ষাগুলি রয়েছে সেগুলি কীভাবে নেওয়া হবে সে বিষয়ে রয়েছে একাধিক ধোঁয়াশা।