তাহলে কী সত্যিই দলনেতা পদ থেকে সরানো হচ্ছে অধীর রঞ্জন চৌধুরী কে! রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা

বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায় যে কংগ্রেস লোকসভার দলনেতার পদ থেকে এবার সরানো হতে পারে অধীর চৌধুরী কে। সামনে আসছে লোকসভার ভোট। আর এই ২৪ সালের লোকসভা ভোটকে মাথায় রেখেই এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ মহল।

২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর বাম কংগ্রেস দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আর এই কারণেই হয়তো কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে কংগ্রেস লোকসভার দলনেতার পদ থেকে অধীর চৌধুরী কে সরিয়ে দেওয়ার।

মমতার সঙ্গে দূরত্ব রাখতে চাননি কংগ্রেস হাইকমান্ড। এমনকি রাজ্য কংগ্রেসের একটি লবি থেকে ২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল- কংগ্রেস জোট বাঁধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তবে অধীরের নেতৃত্বেই মোর্চা তৈরি হওয়ায় সেই জোট বাঁধা সম্ভব হয়নি।বিজেপি নেতাদের সাথে অধীর চৌধুরীর সম্পর্ক একটু ভালো হলেও মমতা ব্যানার্জির সাথে তাঁর বিপরীত সম্পর্ক। কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে অধীর চৌধুরীর এই মনোভাবের জন্যই হয়তো মুর্শিদাবাদের আসনটিও হারিয়েছে কংগ্রেস।

এবার কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির সাথে বাক্যবাণের পরিবর্তে একটা সুসম্পর্ক করতে চায়। মমতা ব্যানার্জির সাথে সম্পর্ক ভালো তৈরি করে যদি কংগ্রেসের হাত শক্ত হয় তবে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়তে পারবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে মমতা ব্যানার্জির সাথে কংগ্রেসের এই সেতুবন্ধনে অধীর চৌধুরী যাতে কোনোভাবেই বাঁধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে সেইজন্য কংগ্রেস সুপ্রিমো চাইছেন তাঁর দলের আসন থেকে অধীর চৌধুরী কে সরিয়ে দিতে।

এবার প্রশ্ন‌ হল অধীর চৌধুরীকে আসন থেকে সরিয়ে দিলেও সেই আসনে কাকে বেছে নেওয়া হবে? মনে করা হচ্ছে অধীর চৌধুরীর বিকল্প হিসেবে চাউল শশী থারুর, আনন্দপুর সহিব, মণীশ তিওয়ারি- এই তিনজনের মধ্যে একজনকে নেওয়া হবে।