ভিক্ষুকদের সাথে ঘুমানো, দ্বাদশ শ্রেণীতে ফেল, অটো পর্যন্ত চালিয়েছেন, গার্লফ্রেন্ডের একটি শর্তের কারণে আজ IPS অফিসার

এই বিষয়ে কোন দুটো মত নেই যে এই পৃথিবীতে কখন কার ভাগ্য উজ্জ্বল হতে চলেছে তা কেউ জানে না। প্রায়ই আপনি আপনার আশেপাশের মানুষের মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন দেখেছেন। তবে এই ভাগ্য পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্ব রয়েছে কঠোর পরিশ্রমের। এই ধারাবাহিকতায়, আজ আমরা এমন একজন ব্যক্তির কথা বলতে যাচ্ছি, যিনি ভিক্ষুকদের সাথে ঘুমিয়েছিলেন, এমনকি দ্বাদশ শ্রেণীতে ফেল করার পরেও একটি অটো চালাতেন, কিন্তু তার ভালবাসা তাকে আইপিএস অফিসার বানিয়েছিল। আসুন পুরো খবরটা জেনে নিই।

আজ আমরা যার কথা বলছি তিনি হলেন মনোজ শর্মা। তিনি মধ্যপ্রদেশের মোরেনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মনোজ স্কুলে ৩৩% নম্বরও পায়নি। তিনি একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত কপি করে পাশ করেছেন। মনোজ দ্বাদশ শ্রেণীতে কপি করতে পারেনি তাই ব্যর্থ হয়ে ফেল করেন। তিনি গোয়ালিয়রেও টেম্পো চালাতেন। তার আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তার মাথায় ছাদ পর্যন্ত ছিল না। তাই তাকে ভিক্ষুকদের সাথেও ঘুমাতে হয়েছিল। কিন্তু আজ মনোজ তার কঠোর পরিশ্রমের কারণে সাফল্যের উচ্চতায়।

আজ মনোজ শর্মা ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসের একজন সাহসী অফিসার। মনোজ শর্মার আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তিনি দিল্লিতে অফিসারদের কুকুরগুলিকে রাস্তায় হাঁটানোর কাজ গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। মনোজের কাছে টাকা ছিল না, তাই সে মন্দিরে ভিক্ষুকদের সাথে ঘুমাত। সেই সময় মনোজ লাইব্রেরি কাম পিয়নের চাকরি পেয়েছিলেন। আর সেই লাইব্রেরী বদলে দেয় তার জীবন সেখানে থাকা বই গুলি যেমন গোর্কি, আব্রাহাম লিংকন থেকে মুক্তবোধ মহান ব্যক্তিদের কাজ সম্পর্কে তিনি পড়তে শুরু করেন, আর এই বইগুলো পড়ে তিনি জীবনের বাস্তবতা বোঝার সুযোগ পেয়েছিলেন।

Advertisements

উল্লেখ্য, মনোজ দ্বাদশ শ্রেণীতে পরীক্ষায় কপি করার একটি সম্পূর্ণ পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় স্কুলে থাকা এসডিএম কঠোর ছিলেন এবং কপি করার অনুমতি দেননি। তখন মনোজ ভাবলো কে এত শক্তিশালী মানুষ, যার সাথে সবাই একমত। তাকেও এরকম হতে হবে। কিছু করার ইচ্ছা তার মনের মধ্যে শুরু হয়েছিল সেই সময় থেকেই। অন্যদিকে, মনোজ শর্মা একটি মেয়েকে ভালোবাসতেন যার নাম ছিল শ্রদ্ধা, কিন্তু নিজের মনের কথা বলতে তিনি ভয় করতেন। তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে মেয়েটি তাকে ১২ তম ফেল হিসাবে বিবেচনা করে তার ভালবাসাকে প্রত্যাখ্যান করবে।কিন্তু তিনি দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রচেষ্টায় মেয়েটির প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

Advertisements


সেই সময় মনোজ এই মেয়েটিকে বলেছিলেন যে আপনি যদি হ্যাঁ করেন এবং আমাকে সমর্থন করেন তবে আমি এই পৃথিবীতে অসম্ভব কাজকেও সম্ভব করে দেখাতে পারি। মেয়েটি সেই কথা মতো রাজি হয়, মনোজ দুবার প্রস্তুতি নেয় এবং সাফল্য অর্জন করে। এইদিকে মনোজকে তার প্রেমীকা শ্রদ্ধা সমর্থন করায় দ্বিগুণ উত্তেজিত ছিল। তিনি দ্বিগুণ উদ্যোগ নিয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উপস্থিত হন এবং সাফল্য পান। ২০০৫ ব্যাচের মহারাষ্ট্র ক্যাডার থেকে মনোজ আইপিএস হন। বর্তমানে মনোজ মুম্বাইয়ে পশ্চিম অঞ্চলের অ্যাডিশনাল কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত।