দেশনতুন খবরবিশেষভারতীয় সেনা

পুলওয়ামায় শহীদ মেজর বিভূতি ধৌনদিয়াল-এর স্ত্রী যোগ দিচ্ছেন সেনাবাহিনীতে, স্বামীর কফিনের সামনে করেছিলেন এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা…

দেখতে দেখতে কেটে গেল একটা বছর। এখনো সেই দিনটার কথা ভুলতে পারেনি নিকিতা। যখন তার স্বামীর দেওয়া আছে কফিনের ভেতরে। চোখে জল নিয়ে মুখে কাঠিন্য এবং মনে দেশপ্রেম নিয়ে মৃত স্বামীর কানে শেষবারের মতো বলেছিলেন ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় মৃত জওয়ানের বিধবা স্ত্রীর ওই কান্না সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। শহীদ মেজর বিভূতি শঙ্কর ধৌনদিয়ালের স্ত্রী নিকিতা কৌল ধৌনদিয়াল এবার যোগ দিতে চলেছেন সেনাবাহিনীতে।

নিকিতার কথায়, ” বিভু এখন নেই তার মানে এই নয় যে আমাদের বিয়ের শপথ ভেঙে গেছে ও আমার মন জুড়ে এখনো রয়েছে।” শহীদ জাওয়ান বিভূতির শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দেন নিকিতা। নিকিতা বলেছেন, ” এই ধাক্কা সামলে উঠতে কিছুটা সময় লাগে। তারপর নিজের মনকে বোঝালাম যে বিভু তো আমার মধ্যেই রয়েছে।”

এসএসসির লিখিত পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউ দিয়েছেন শহীদ জাওয়ান এর স্ত্রী নিকিতা। এখন পরীক্ষার রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।
নিকিতা তার নিজের শ্বশুর বাড়িতেই থাকেন। নিকিতা বলেন,” ছ মাস ধরে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি আমি। আমার স্বামী এই পরীক্ষায় ভালো ফল করেছিল। আর আমি যখন এই পরীক্ষা দিতে বসে ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল ও আমার পাশেই বসে রয়েছে। তাই এক অদ্ভুত সাহস পেয়ে ছিলাম তখন।”

ভারতীয় সেনাবাহিনীর 55 রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের জাওয়ান ছিলেন মেজর বিভূতি ধৌনদিয়াল।পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পরে সেনা এবং জঙ্গির এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় তার। সেই দিন ছিল 17 ফেব্রুয়ারি। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ঠিক পরের দিন সেনা-জঙ্গির সংঘর্ষ হয় পিংলিশ গ্রামে।জাওয়ানরা খবর পাই একটি ঘরে কয়েকজন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। এরপর সেই বাড়িটিকে জওয়ানরা পুরো ঘিরে ফেলে। এরপর সারারাত ধরে চলে গুলির লড়াই। গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয় মেজর বিভূতি ধৌনদিয়াল এবং ওই পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রি গুলির লড়াই মারা যায়।

মেজর বিভূতি শঙ্কর ধৌনদিয়ালের বয়স তখন সবে মাত্র 35। এক বছর হয়েছে নিকিতা সঙ্গে বিয়ে হওয়া। ভালোবাসায় বিয়ে তাদের। এমনকি বিবাহ বার্ষিকীর আগাম পরিকল্পনা করা হয়েছিল তাদের দুজনার। যখন স্বামীকে হারিয়ে ফেলার খবর আসে ফোনে তখন তার কথা বলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল প্রায়। সেই মুহূর্তটাকে যেন তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তার সাথে এত বড়ো ঘটনা ঘটে গেছে। এরপর তার স্বামীর মৃতদেহ যখন তিরাঙ্গাতে মুড়া কফিনবন্দি হয়ে আসে তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল তার পুরো পরিবার।

কিন্তু সেই সময় কানতে ভুলে গিয়েছিল নিকিতা। কফিনের দিকে তাকিয়ে নিকিতা একবার স্যালুট করেন। ধীরে ধীরে কফিনের সামনে এসে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন ‘আই লাভ ইউ’। নিকিতা বলেন, তার শাশুড়ি তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন। শোকার্ত পরিবারের মনোবল বাড়ানোর জন্য এটিই ছিল তাঁর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। তিনি বলেন,” ইন্টারভিউতে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কতদিন হয়েছিল বিয়ে হওয়া। আমি উত্তর দিলাম দু’বছর। উনারা অবাক হয়ে বললেন, আমরা তো শুনেছিলাম 9 মাস। তখন আমি হেসে বললাম, বিবাহিত জীবন এখনো শেষ হয়নি।”

Related Articles

Back to top button