আদালতের যুগান্তকারী ঘোষণা বাবা-মায়ের পূর্ণ অধিকার রয়েছে নিজের বাড়িতে থাকার, চাইলে বিতাড়িত করতে পারবেন ছেলে-বৌমাদের

এবার থেকে প্রবীণ নাগরিকেরা স্বচ্ছন্দে নিজের বাড়িতেই বসবাস করতে পারবেন। ইচ্ছে করলে এবার থেকে তারা নিজের ছেলে বৌমা কে বাড়িতে থাকতে নাও দিতে পারেন। সম্প্রতি হাইকোর্টের এমন একটি মামলায় পর্যবেক্ষণে রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তাদের পর্যবেক্ষণ যে ‘সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো বয়স্ক ব্যক্তি তার নিজের বাড়িতে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে’ হাইকোর্টে মামলার বিষয়বস্তু হলো আসলে নিজের ছেলে এবং বৌমার অত্যাচারে বাড়িছাড়া হয়েছিলেন নদীয়ার এক প্রবীণ ব্যক্তি। এরপরই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

হাইকোর্ট সেই মামলার শুনানি চলাকালীন গত শুক্রবার বিচারপতি রাজ শেখর মান্ত্রা মনে করিয়ে দেন সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদটি যেখানে স্পষ্ট লেখা আছে ‘একজন প্রবীণ নাগরিকের নিজের বাড়িতে ভালো হবে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং এই অধিকার ভঙ্গ হলে জীবনের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার ভঙ্গ হতে পারে।’এর সাথে তিনি আরও যোগ দেন ‘জীবনের সূর্যাস্তের সময় কোনো নাগরিককে আদালতে যেতে বাধ্য করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বেদনাদায়ক’।

নদীয়ার ওই প্রবীণ ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন তাহেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে ‘এবার থেকে বয়স্ক মানুষদের নিজস্ব বাড়িতে থাকতে অসুবিধা হলে, দরকার পরলে বাড়ি থেকে পুত্র ও পুত্রবধু কে বার করে দিতে’। বিচারপতি রাজ শেখর মান্থ আরো জানান ‘যে জাতি নিজের বৃদ্ধ, অসুস্থ নাগরিকদের যত্ন নিতে পারে না, সে সম্পূর্ন সভ্যতা অর্জন করেছে বলে গণনা করা যায় না’।

এদিন বিচারপতির মন্তব্যে বেশকিছু প্রশ্ন চিহ্ন রয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই শ্বশুরবাড়িতে পুত্র এবং পুত্রবধূদের থাকার আইনি অধিকার রয়েছে সেক্ষেত্রে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া আইনত যুক্তিযুক্ত কিনা তার উত্তর এদিন জানা যায়নি। বিচারপতি অবশ্য ২০০৭ সালের প্রবীণ নাগরিকদের আইন অনুসারে যে বয়স্ক ব্যক্তি তার নিজের বাড়িতে বসবাসের অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন। অন্যদিকে ২০০৫ সালে পারিবারিক হিংসা আইন অনুযায়ী পুত্রবধূদের রক্ষার কথা বলা আছে। বাসস্থানের পক্ষে যদিও এখানে কোন নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া নেই এই আইনে।