হায়দ্রাবাদের ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন বলিউড ভাইজান, বললেন জোট বেঁধে শেষ করতে হবে এসব শয়তানদের…

হায়দ্রাবাদের পশুচিকিত্সক তরুণীকে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় জেরে ক্ষুব্ধ গোটা দেশ। সকল দেশবাসী এখন একজোট হয়ে অবিলম্বে এই ধর্ষণকারী দোষীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক বলে দাবি তুলেছে। অন্যদিকে নির্যাতিতার মা চাইছেন এইসব দোষীদের ফাঁসি নয় বরং একইভাবে পুড়িয়ে মারা হোক যাতে তাদের চিৎকার সকল দেশবাসী শুনতে পায়। তারই মধ্যে এবার নির্যাতিতার সমর্থনে মুখ খুললেন বলিউড ভাইজান সালমান খান।

এই দিন বলিউড অভিনেতা সালমান খান তার টুইটার অ্যাকাউন্টে টুইট করে জানালেন আমাদের মধ্যে যে শয়তানরা বাস করে তাদের চরম শাস্তি চাই। আর তাদের আটকানোর দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। গতকাল শনিবার দিন সালমান খান টুইটারে পোস্ট করে নির্যাতিতার কথা উল্লেখ করে বলেন মানুষরূপে কিছু শয়তানরা বাস করছে আমাদের মধ্যে। নির্ভায়া কিংবা হায়দ্রাবাদের নির্যাতিতাদের যে কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তার বিরুদ্ধে এখন আমাদের একজোট হতে হবে। মানুষরূপী যে শয়তানরা আমাদের মধ্যে বাস করছে তাদের শেষ করতে হবে আমাদেরকেই।

আর এবার কোন নিরীহ মেয়েকে এই অত্যাচারের শিকার হওয়ার আগে আমাদের এটা করতে হবে। দেশের যে স্লোগান “বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও”- এটিকে শুধু প্রচার এর মধ্যে রাখলে চলবে না। এবার সময় এসেছে এই শয়তানদের জানিয়ে দেওয়ার আমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আর এরই সাথে সাথে ভগবানের কাছে এই নির্যাতিতাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। বলিউড ভাইজান এরকম এক টুইটের পরেই অনেকেই রি-টুইট করে কমেন্ট করেন অনেকেই লিখেন দেশের এখন সব সেলিব্রিটিদের এগিয়ে আসা উচিত।

সকলের উচিত তাদের প্রতিবাদের কথা তুলে ধরার দেশের মানুষের কাছে তাহলে এই আন্দোলন আরো বাড়বে। শুধু তাই নয় সমাজে ভালো কাজে এই সেলিব্রিটিরা এগিয়ে এলেই সাধারন মানুষের শ্রদ্ধা এই সেলিব্রিটিদের প্রতি আরও অনেক গুণ বেড়ে যাবে। গত বৃহস্পতিবার দিন রাতে হায়দ্রাবাদের 26 বছর বয়সী এক পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে চারজন।পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর থেকে জানতে পাওয়া যায় একটি টোলপ্লাজায় এই তরুণী নিজের স্কুটি টি রেখে ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। অভিযুক্তরা প্রথমে স্কুটি পামচার করেন এবং পরে তাকে সাহায্য করার বাহানা করে জোর করে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে।

তারপর তাকে সেই অবস্থাতেই একটা কালভার্টের নিচে নিয়ে গিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরের দিন সকালে এ ঘটনা দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে এলে রাগে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে গোটা দেশ। শুধু তাই নয় এর জেরে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রতিবাদ আন্দোলন ও শুরু হয়। আপাতত পুলিশের তরফ থেকে চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আবেদন করা হয় অভিযুক্তদের হয়ে কেউ যেনো সওয়াল জবাব না করে। এরই সাথে অভিযুক্ত দোষীদের চরম শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। হায়দ্রাবাদের সরকার চাইছে এই কেসটিকে ফাস্ট ট্র্যাকে কোর্টে তুলতে যাতে এই কেসের নিষ্পত্তি দ্রুত হয়।

Related Articles

Close