ঋতুমতী অবস্থায় সরস্বতী পুজো করা তরুণীর পাশে দাঁড়ালেন ‘শবরী’ ঋতাভরী, দিলেন এই বার্তা

রজঃস্বলা অবস্থায় পুজো!  পরচলিত ধ্যান ধারণা অনুযায়ী এই সময় ঠাকুরের কোনো কাজ করা তো দূর, ঠাকুরের স্থানের আশেপাশেও যেতে নেই৷ সেখানে দমদমের তরুণী উষসী চক্রবর্তী রজঃস্বলা অবস্থায় সরস্বতী পুজো করলেন নিজে হাতে৷ তারপর নিজেই সেই খবর  সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন৷  সেই খবর এখন ভাইরাল।

অনেকেই প্রশংসা করেছেন৷ কিন্তু  নেটদুনিয়ার -নীতিপুলিশদের রক্তচক্ষুর শিকার হতে হয়েছে উষসীকে। পুরোহিতদের একাংশ, রঘুনন্দনের শুদ্ধিতত্ত্বকে উপেক্ষা করার চরম বিরোধিতা করেছেন । তবে দমদমের উষসী যখন ঋতুমতী অবস্থায় মা সরস্বতীর আরাধনা করে সমালোচনা-কটাক্ষের সম্মুখীন হচ্ছেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ালেন ‘শবরী’ ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)।

“নারী দেহ পুরোপুরি শুচি কিনা”,  সমাজের প্রচলিত এই ট্যাবুকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন অভিনেত্রী ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মোটি ছবির মধ্য দিয়ে । শুধু তাই নয়,এই  বার্তাও দিয়েছিলেন যে, রজঃস্বলা নারীর ঈশ্বর আরাধনায় কোনও বাধা থাকা উচিত নয়৷ ঋতাভরীর মন্তব্য, “অন্তরের ভক্তি-শ্রদ্ধাই আসল। কতটা বেদ জেনে সে পুজো করছে, সেটাই মূল। ঋতুস্রাব তো একটা শারীরিক প্রক্রিয়া। নিত্যদিন ঠিক যেমনটা আমরা মল-মূত্র ত্যাগ করি, সেরকমই। ঋতুস্রাবের অস্তিত্ব  থাকলে তো, এই পৃথিবী থেকে জন্ম প্রক্রিয়াটাই লুপ্ত হয়ে যাবে। তাই এসব পুরনো চিন্তাভাবনা ঝেড়ে ফেলে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করা উচিত। এটা কোনও রোগ নয়, বলা ভাল ‘শরীর খারাপ’ নয়!ঋতুস্রাব খুব সাধারণ একটা শারীরিক প্রক্রিয়া। যা না হলে আখেড়ে সৃষ্টির-ই ব্যাঘাত ঘটবে।”

মা সারদা ঋতুস্রাব চলাকালীন ঠাকুরের পুজো করতেন, ভোগও রান্না করতেন নিজে হাতে। তাঁর স্বামী পরমহংস শ্রী রামকৃষ্ণ কখনও বাধা দেন নি,   বরং উৎ‍সাহ জুগিয়েছিলেন। সেই দিক থেকে একবিংশ শতাব্দীতেও ওষুধের দোকানে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে গিয়ে যেখানে ‘লুকোচুরি’ খেলতে হয়, সেখানে এক রজঃস্বলা নারীর পুজো নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, সেটাই স্বাভাবিক!

ঋতাভরী চক্রবর্তী

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিয়ে ঊষসী শুধু লিখেছিলেন, ‘‘জীবনে প্রথমবার সামবেদ মেনে নিজেই নিজের বাড়ির সরস্বতী পুজো করলাম। আজ আমার দ্বিতীয় দিন।’’ ব্যস, তোলপাড় শুরু  সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী নেপালের এই ছোট্ট মেয়ে, লেখা দেখে চমকে উঠবেন আপনিও

এপ্রসঙ্গে  শবরী ওরফে ঋতাভরী চক্রবর্তীর সাফ কথা, “দাদু ছিলেন কমিউনিজমে বিশ্বাসী। তিনি ঈশ্বরে-ই বিশ্বাস করতেন না। তবে দিদা ছিলেন ঈশ্বর বিশ্বাসী। সবরকম পুজোই হত আমাদের বাড়িতে। তবে ঋতুমতী অবস্থায় পুজো করা যায় কিনা, এই প্রশ্নটাই কখনও আমাদের পরিবারে ওঠেনি। আমাদের পরিবার ঠিক এতটাই উদারনৈতিক চিন্তাধারা পোষণ করে।

ঋতাভরী চক্রবর্তী

আমার কাছে, পুজো করা মানে ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা। সেক্ষেত্রে শরীর শুচি-অশুচি কিনা সেটা বড় কথা নয়। অতঃপর ঋতুস্রাব হওয়াটা এমন কোনও পাপ নয় যে, এই অবস্থায় ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে না। যদি তাই হত, তাহলে সৃষ্টির সঙ্গে এর কোনও যোগই থাকত না।”