“সত্যিই কী পুজোর পর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খুলে যাবে স্কুলের দরজা “–জানুন কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে টানা দু’বছর ধরে বন্ধ দেশের স্কুল ,কলেজ এবং সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউ পার করবার পর তৃতীয় ঢেউয়েরর প্রাক্কালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্কুল খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি । তবে পশ্চিমবঙ্গে এখন স্কুল খোলার ব্যাপারে কোনো রকম চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বর্তমানে দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি করোনার সংক্রমণ কেরল রাজ্যে। তবে পশ্চিমবঙ্গে স্কুল খোলার ব্যাপারে এখনো সেরম ভাবনা চিন্তা না করলেও শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল গুলি রিপেয়ারিং এর জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে সোমবার রাজ্যের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল গুলি রিপেয়ারিং এর জন্য অর্থ বরাদ্দের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় স্কুলগুলি রিপেয়ারিং এর জন্য ১০৯,৪২,৩৭,১৩৩ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য বর্তমানে রাজ্যে ৬৪৬৮ টি মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হচ্ছে নির্দিষ্ট জেলাগুলিতে স্কুলগুলির বরাদ্দের টাকা জেলাশাসকদের দায়িত্বে বন্টন করে দেওয়া হবে। সমস্ত টাকা সঠিকভাবে খরচে দিকে যথেষ্ট কড়া নজরদারি রাখা হবে।

বাস্তবিক দীর্ঘদিন সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা ছাত্র- ছাত্রীদের জন্য বন্ধ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নতুনভাবে স্কুল খোলার আগে সমস্ত জায়গার কিছু কিছু রিপেয়ারিং এর দরকার এমনটাই মনে করছেন শিক্ষা দপ্তর। ২০২০ সালের মার্চ মাসের চতুর্থ সপ্তাহ থেকে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য স্কুলের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল । দীর্ঘকাল বন্ধ ক্লাসরুম। স্কুলের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে শিক্ষকদের স্কুলে যেতে হলেও নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হয় না স্কুলের সমস্ত ক্লাসরুম গুলি।একে করোনাকালীন পরিস্থিতির জন্য মাসের পর মাস স্কুল গুলি বন্ধ ,তার ওপর গত বছর আমফানের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোন কোন স্কুলে জানলা দরজাও ভেঙে পড়েছে।

Advertisements

এইমোতে পরিস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের কথা ভেবেই বিকাশ ভবন এর তরফ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি প্রকৃত অবস্থা কি তা যাচাইয়ের জন্য জেলাশাসক দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত মাসে এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের সমস্ত স্কুলগুলির প্রকৃতপক্ষে কি অবস্থা তার একটি চার্ট তৈরি করে জমা করা হয়। বর্তমানে তৃতীয় ঢেউ এখনো দেশে প্রবেশ করেনি তবে করণা পরিস্থিতি আগের থেকেঅনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গতমাসে করোনার সংক্রমণ ৫৫০ থেকে ৭৫০ মধ্যে রয়েছে। তবে সোমবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬০১ জন। সোমবার রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।

Advertisements

বর্তমানে পজিটিভিটি রেট বেড়ে হয়েছে ২.২৭ শতাংশ। তবে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় নতুন করে সংক্রমণ বাড়লেও সেখানে কোন মৃত্যুর খবর শোনা যায়নি উত্তরবঙ্গে কোন মৃত্যুর খবর না থাকলেও দক্ষিণবঙ্গের কিছু কিছু জেলা যেমন নদিয়া উত্তর 24 পরগনা এবং কলকাতায় কিছু সংখ্যক করোনা আক্রান্তের মৃত্যু ঘটেছে।১০-২০ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যে রাতের বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে ।

তবে এই রাজ্যে স্কুল খোলার ব্যাপারে এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেভাবে কিছু মুখ খোলেননি। বেশ কিছুদিন আগে আগস্ট মাসে এক জনসভায় এসে তিনি পুজোর পর স্কুল খোলার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিলেও বর্তমানে কবে স্কুল খুলছে সেভাবে কিছু ঘোষণা করেনি মুখ্যমন্ত্রী । তবে শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে পুজোর পর স্কুল খোলার কথা ভাবনা চিন্তা করলেও পুরোটাই এখন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের উপর নির্ভর করছে।