13 ই আগস্ট 2004 এর ঘটনা যেখানে ধর্ষণকারীকে আদালতের মধ্যে পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যা করেছিল 200 জন মহিলা…

হায়দ্রাবাদের তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে তোলপাড় রয়েছে গোটা  সোশ্যাল মিডিয়া। সকল দেশবাসী এর প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। সকলেই চাইছেন এই অপরাধীদের চরমতম শাস্তি দেওয়া হোক তবে এই শাস্তি কেমন হতে পারে আর কতটা নিশংস হতে পারে, সেই বিষয়ক সকলেই ব্যক্তিগত মতামত দিতে দ্বিধা বোধ করছেন না।অনেকে তো এমনটাই দাবি করছে যে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনার বিচার করার দায়িত্ব আইনের নয় এটা বিচার করার দায়িত্ব সম্পূর্ণ জনগণের তাই জনগণের হাতে তুলে দেয়া হোক এই দোষীদের।

আর এই সমস্ত সমালোচনার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরেক জনের নাম বারবার উঠে আসছে যার নাম আক্কু যাদব।বলে রাখি এই সেই ব্যক্তি যাকে আজ থেকে দেড় দশক আগে ধর্ষণের অভিযোগে গণহত্যা করা হয়েছিল আদালতের মধ্যেই। যার খুন করেছিলেন 200 জন মহিলা মিলে, খুন করার পর তারা সকলেই বলেছিলেন আমাদের সকলকে গ্রেফতার করা হোক। আপনাদের সুবিধার্থে বলে রাখি এই  আক্কু যাদব ছিলেন নাগপুরের কাছে কস্তুরবাই নগর এলাকার একজন সু প্রতিষ্ঠিত, ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের এক ছেলে। যিনি বছর পনেরো পরে এলাকার এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে ছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তখন।

 

এমন কী ধর্ষিতার পরিবার ও পুলিশের কাছে এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাকে ভয় দেখিয়ে হুমকি দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই মুহূর্তে কেউ সেটা বুঝতে পারেনি যে এটা সবেমাত্র শুরু। যেহেতু ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের ছেলে ছিল আক্কু যাদব সেহেতু বারবার এই একই অপরাধ করতে শুরু করে সে। তারপর থেকেই তার ওপর একের পর এক ধর্ষণের অভিযোগ উঠতে শুরু করে।রীতিমতো এলাকায় মহিলাদের ধর্ষণের অভিযোগ উঠতে থাকে তার বিরুদ্ধে তবে অনেকে ভয় পেয়ে গেলেও কিছু কিছু লোক পুলিশের কাছে দ্বারস্থ হয়। 

তবে আক্কু যাদব দাপুটে এবং প্রভাবশালী হওয়ার কারণে গ্রেফতার হলেও বারবার আইন এর শাস্তির হাত থেকে রেহাই পেয়ে যেতে থাকে। আর বারবার রেহাই পাওয়ার কারণে তার দুঃসাহসের মাত্রা আরো অনেকগুণ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক দশক ধরে ওই এলাকায় বিভিন্ন মহিলাকে নিয়মিত ধর্ষণ করেছিল সে।বরাবর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হলেও বিচারের আশা মেলেনি কারুর। উল্টে বরাবরই মিলছিল আক্কু যাদবের নিঃশর্ত জামিন। বস্তির মহিলাদের ধর্ষণ করা যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়ে গিয়েছিল আক্কুর কাছে।

বারবার অভিযোগের দায়ে নিয়ম মেনে গ্রেপ্তার করা হতো তাকে তবে ফের নিয়ম মেনেন মিলে যেত তার জামিন। আর সে বস্তিবাসীর তরফ থেকে বরাবর অভিযোগ উঠতো যে পুলিশ নিয়মিত টাকা পেত এর জন্য আক্কু যাদবের কাছে থেকে। সাথে পেতো নেশার সামগ্রী ও। যার দরুন পুলিশের তরফ থেকে এমন এক চার্জশিট তৈরি করা হতো যাতে খুব সহজেই তথ্য-প্রমাণের অভাব দেখিয়ে মুক্তি পেয়ে যেত আক্কু যাদব। শুধু পুলিশই যে তার হাতে বিক্রি হয়েছিল তা নয় রীতিমতো আইনজীবীদের ও কিনে নিয়েছিল সে।

তাই বেশিরভাগ তার ওপর যে অভিযোগ দায়ের করা হতো সেখানে অভিযোগকারিনীকে অর্থাৎ ধর্ষিতাদেরই যৌনকর্মী হিসাবে দেখতে আইনজীবিরা। এমনকি একবার তো এক 22 বছরের তরুণী তার ওপর অভিযোগ আনলে তাকে তার প্রেমিকা হিসেবে দাবি করে চার্জশিট পেশ করেছিল পুলিশ। যার ফলে ফের মুক্তি পেয়ে গিয়েছিল এই ধর্ষণকারী।শুধু তাই নয় অনেক সময় বস্তিতে মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে দূরে কোথাও নির্যাতন চালাত ধর্ষণকারী, সাথে তার সাঙ্গোপাঙ্গরাও জুটিয়ে চালাতো গণধর্ষণও। দিন দিন এই 30 বছরের  আক্কু যাদবের ওপর ক্ষোভ বাড়তে লাগে এলাকাবাসীর, কয়েকশো পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই নামটি।

ধর্ষণ ও নির্যাতন যেন রীতিমতো ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছিল আক্কু যাদবের কাছে। দিন দিন দিব্যি কেটে যাচ্ছিল তার জীবন কিন্তু বিচার থেকে গিয়েছিলো অধরা। তাই স্বাভাবিকভাবে মানুষের ক্ষোব বেড়ে চলছিল তার ওপর। অবশেষে 2004 সালের মাঝামাঝি ঊষা নারায়ান নামে এক বছর 25 শের এক তরুণী যিনি পেশায় ছিলেন এক সমাজকর্মী। যিনি ওই বস্তিতে মহিলাদের উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে জানতে পারেন আক্কু যাদবের কথা। তারপর তিনিই এই বস্তির মহিলাদের মধ্যে সাহস যোগান প্রতিবাদের প্রতিশোধের। বস্তির সকল মহিলাদের একজোট করেন এই ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে।

পরে 6 আগস্ট প্রায় 500 মহিলা একসঙ্গে মিলে চড়ে আক্কুর বাড়িতে, তবে এই ঘটনার খবর আগেই পেয়ে গিয়েছিল আক্কু যাদব যার দরুন সেদিন বাড়ি না পৌঁছে পুলিশের কাছে পরামর্শ চেয়েছিল নিজের আত্মসমর্পণ করে নিরাপত্তার জন্য। আর পুলিশ ও পরামর্শ দিয়েছিল তাকে ফলে সেদিন সেই সব মহিলাদের হাতে প্রাণে মরার হাত থেকে বেঁচে যায় সে। তবে আক্কু যাদব মনে করেছিল এবারও অন্যবারের মতো আইনের ফাঁক গলে পার হয়ে যাব। তাই অন্যবারের মতো এবারও আদালতে শুনানির জন্য আদালতে ঢোকার সময় এক টুকুও লজ্জিত বা অনুতপ্ত ছিলনা সে।কারণ সে এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিল যে আইনজীবী ও পুলিশের কারসাজিতে অন্য বারের ন্যায় এবারো সে ছাড় পেয়ে যাবে।
আর হতো ঠিক তেমনটাই। এদিন আদালতে ঢোকার সময়ই নির্যাতনের শিকার হওয়া যে মহিলা জমায়েত করেছিল তাদের মধ্যে একজনকে লক্ষ্য করে খুব অশ্লীল গালাগালি দেয় সে। এমনকি তাকে এটা পর্যন্ত বলে যে বাইরে বেরিয়ে এসে তাকে দেখে নেবে, আর যেখানে পুলিশের ভূমিকাও ছিল নিন্দনীয়। পুলিশরা যেখানে এইসব অশ্লীল মন্তব্য শুনে হাসাহাসি করছিল। তবে এতদিন ধরে জমে থাকা বারুদ যেন এবার জ্বলে উঠলো, সেখানে জমায়েত করা মহিলাদের মধ্যে এক মহিলা চিৎকার করে বলে উঠল আমরা দুজনে একসঙ্গে এই পৃথিবীতে থাকতে পারবো না আজ হয়তো ও থাকবে না হয় আমি থাকবো এই বলে জুতো খুলে সে মারতে শুরু করল আক্কু যাদবকে।

এরপরে চারপাশ থেকে এই ধর্ষণকারীর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসংখ্য মহিলা। প্রায় 200 জনের মত মহিলার এই স্বতস্ফূর্ত আক্রমণের সামাল দেওয়ার মতো পুলিশি ব্যবস্থা ছিল না সেই আদালতে। এমনকি কারো এটা পর্যন্ত আন্দাজ ছিলনা যে এমনটা হতে পারে আদালত।মহিলারা সেদিন সঙ্গে করে আনা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকেন আক্কু যাদবকে।এরপরে ক্ষতবিক্ষত আক্কুর ওপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় লঙ্কার গুঁড়ো। শুধু তাই নয়, কেটে নেওয়া হয় তার পুরুষাঙ্গ। মাত্র 15 মিনিট সময়ের মধ্যেই সব শেষ। রক্তে ভেসে যায় আদালত চত্বর। চরম বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রীতিমতো।

পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলেছিল, আক্কুর শরীরে প্রায় 100 টি গভীর ক্ষতর চিহ্ন ছিল। তবে এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনা চলাকালীন আদালত চত্বরে যত মহিলা উপস্থিত ছিলেন, সকলেই নিজেকে আক্কুর খুনে অভিযুক্ত বলে দাবি করেন। তারা দাবি করেন, তাঁদের গ্রেফতার করা হোক। প্রথমে পাঁচ জনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। কিন্তু এর পরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। শেষমেশ তাঁদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। পরে আক্কু যাদব খুনের সব দায় নিজে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তরুণী সমাজকর্মী উষা নারায়ণ। তাঁর সঙ্গে আরও 21 জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে 6 জন মহিলা ছিলেন।

খুনের অভিযুক্তদের পক্ষে দাঁড়ানো উকিলেরা প্রশ্ন করেছিলেন প্রতিটি অভিযুক্ত এখানে অপরাধী নয় স্বয়ং এই অপরাধের শিকার শেষমেষ উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আর অন্যদিকে আট বছর জেল খাটার পর মুক্তি পান ঊষা ও। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন আক্ক যাদবের হত্যাকান্ড একেবারেই পরিকল্পিত খুন ছিল না

Related Articles

Close