এবার থেকে প্রতি মাসে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে রেশন, “দুয়ারে রেশন” নিয়ে গাইডলাইন প্রকাশ রাজ্য সরকারের

এবার থেকে রেশন তোলার জন্য দোকানে যেতে হবে না।গ্রাহকদের বাড়ির দরজায় রেশন পৌঁছে দেবে সরকার। ‘দুয়ারে রেশন’ নামক প্রকল্প কিছুদিন আগে চালু করেছে রাজ্য । আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামুলকভাবে দুয়ারে রেশন প্রকল্পটি চালু হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে তার সমস্ত রকম প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের খাদ্য দপ্তর। তবে কি ভাবে সঠিক নিয়ম মেনে এবং সুষ্ঠভাবে দুয়ারে রেশন প্রকল্প টি হবে তার জন্য প্রতিটি জেলাতে বেশকিছু গাইডলাইন পাঠানো হল রাজ্য খাদ্য দপ্তর এর পক্ষ থেকে। গাইডলাইন মেনে করা পুরো প্রকল্পটিকে পাইলট প্রজেক্ট নাম দেয়া হচ্ছে । যেখানে বলা হচ্ছে পুরো মাসের রেশন গ্রাহকরা একেবারেই পেয়ে যাবেন বাড়ির দরজায়।

১) রেশন ডিলাররা তাদের কাজের সুবিধা অনুযায়ী এবং সেই নির্দিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক গঠন এবং উপভোক্তার সংখ্যা কত তা বিচার করে নিজেদের কাজের পরিমান নির্দিষ্ট করবেন। এক বা দুই জন কর্মী নিয়ে গাড়ি ভাড়া করে রেশন প্রতিটি উপভোক্তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

২) নিয়ম অনুযায়ী বলা হচ্ছে প্রতিটি গ্রাহককে পুরো মাসের রেশন অর্থাৎ খাদ্য শস্য ,চাল-গম যা যা পাওয়ার তা একেবারেই দিয়ে দিতে হবে ডিলারদের।

৩) রেশন তোলার জন্য গ্রাহকদের ই-পাসের মাধ্যমে যথাযথ বায়োমেট্রিক দিতে হবে তবেই তারা পাবেন রেশন।

৪) একটি পরিবারের যে কোনো একজন সদস্যও পাসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক দেয়ার পর পুরো মাসে রেশন তারা বাড়িতে বসেই পাবেন। সে ক্ষেত্রে কোন গ্রাহক যদি সেদিন বাড়িতে রেশন গ্রহণ করতে না পারেন। তাহলে যেদিন দোকান খোলা থাকবে ঐদিন দোকানে গিয়ে তার প্রাপ্য রেশন গ্রহণ করতে হবে।

৫) রাজ্যের খাদ্য দপ্তরের থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে যে দিন দোকান খোলা থাকবে জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট দিনগুলিতে রেশন দোকান খোলা থাকবে। আবার অপরদিকে ডোরস্টপ ডেলিভারি দিনগুলিতে গ্রাহকরা বাড়ির দরজা রেশন পাবেন। সুতরাং যেই দিন যেখান থেকে রেশন দেয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে গ্রাহকদের সেই দিন সেই সেই জায়গা থেকে রেশন গ্রহণ করতে হবে । সেটা দোকান থেকে হোক কি ডোরস্টপ ডেলিভারি।

৬) রেশন ডেলিভারি দেওয়ার সময় গ্রাহকরা বায়োমেট্রিক দিতে যদি অসুবিধায় পড়ে তাহলে সে ক্ষেত্রে ডিলারদের ইন্টারনেট পরিষেবা খতিয়ে দেখতে হবে ।কোন ইন্টারনেট পরিষেবা সেই এলাকায় ভালো কাজ করে সেই মতো দেখে ডিলারদের ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি সিম নিতে হবে। যাতে ই-পাস দেওয়ার সময় গ্রাহকরা কোনরূপ অসুবিধায় না পারেন।

৭) ডিলাররা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার সময় গাড়ি ভাড়ার ভর্তুকি রাজ্য দেবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো রাজ্য খাদ্য দপ্তর আলোচনার পর্যায়ে রেখেছেন।

৮) এই প্রকল্পের জন্য ডিলাররা পাইলন্টিং তারিখ থেকে অতিরিক্ত কমিশন পাওয়ার বিষয়টি রাজ্য খাদ্য দপ্তর খতিয়ে দেখছেন।

মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে চতুর্থ সপ্তাহের মঙ্গলবার, বুধবার ,বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার এই চারদিন দুয়ারে রেশন দেওয়া হবে। খাদ্য দপ্তর থেকে আলোচনা হয়েছে প্রত্যেকটি এলাকাকে নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করে নিতে হবে । প্রতিটি ভাগের জন্য প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহ নির্ধারণ করতে হবে । প্রতি শনিবার দোকান থেকে রেশন নিতে হবে। রাজ্যের খাদ্য দপ্তর প্রথমে ১৫ শতাংশ রেশন এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারণ করেছেন। পরে তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।