130 মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির মালিক হওয়ার সত্বেও বিশ্বের ধনী ব্যক্তির তালিকায় নেই তার নাম

যেমন কি আপনারা জানেন ফোর্বসে প্রতিবছর বিশ্বের সমস্ত ধনী ব্যক্তিদের একটি করে তালিকা বের করা হয়, যেখানে দেশের সমস্ত নামিদামি ধনী ব্যক্তিদের ক্রম অনুযায়ী নাম্বারিং করা হয়। তবে এই তালিকার মধ্যে বেশ কয়েকটি নাম সবার মুখস্থ হয়ে গেছে যেমন বিল গেটস বা ওয়ারেন বাফেট। আর এর মধ্যে বেশ কয়েকবার 86 বিলিয়ান মূল্যের সম্পদ নিয়ে তালিকার শীর্ষ স্থান অধিকার করেছিল বিল গেটস।আর তারপরই 75.6 মিলিয়ন সম্পদ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন বাফেট। আর তাদের পরে আছে জাকারবার্গ কিংবা জেফ বেজোসসহ অনেকে।

তবে আপনারা এটা জানলে অবাক হবেন যে আরো কিছু মাল্টিন্যাশনাল কম্পানি রয়েছে যারা এই তালিকায় থাকা ধনী ব্যক্তিদের চেয়েও বেশি অর্থ কামাচ্ছে। আর এই ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসাবে ভারতের রতন টাটা গ্রুপের কথা বললেই হয়। এ কথা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে রতন টাটা কিন্তু বিল গেটস এর চেয়ে বেশি ধনী। তবে এখন অনেকের মনে এই প্রশ্ন তাহলে তালিকায় নাম কেন নেই তার?1986 সালে জামসেদজী টাকার হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পায় এই টাটা গ্রুপ।

আর বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে পরিচিত পায় এই প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এই টাটা কোম্পানি চালাচ্ছে মোট 96 টি কোম্পানি। যার মধ্যে 30 টি প্রতিষ্ঠান পাবলিক লিস্টেড’ হিসেবে অবস্থান করছে। এই তালিকায় আছে টাটা স্টিল, টাটা মটরস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস। টাটা পাওয়ারসহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান। এগুলো সব মিলিয়ে 130 বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা পরিচালনা করছে টাটা গ্রুপ। ভারতে ‘রেসপন্সেবল বিজনেস’ গ্রুপের প্রতি 5 টির মধ্যে 4 টিই টাটার অধীনে। তবুও টাটার কর্ণধার রতন টাটার নাম শীর্ষ ধনীর তালিকায় নেই। এর প্রধান কারণ হলো টাটা পরিবার এবং কোম্পানিগুলির ইনকামের 65% চ্যারিটিতে দান করে দেওয়া হয়। তার বিভিন্ন কম্পানির লভ্যাংশ চ্যারিটিতে যোগ করা হয়, তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নয়।তাই টাটার ব্যক্তিগত সম্পদের মূল্য কখনও 1 বিলিয়ন ডলারের সীমারেখা ছাড়ায় না। তবে টাটা গ্রুপের এই মানব কল্যাণ অনুদান কেবল ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় তার আন্তর্জাতিক সংস্থা তেও এই অনুদান দেখতে পাওয়া যায়।

টাটা গ্রুপ হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে 50 মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। এটাই কোনো আন্তর্জাতিক ডোনারের কাছ থেকে পাওয়া সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ। বোস্টনের ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমিক এবং বসবাসের ভবন নির্মাণে ওই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।অন্যদিকে বাড়িতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে টাটা বানিয়েছে হোম পিউরিফিকেশন সিস্টেম যার মূল্য মাত্র হাজার টাকা বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করা হয়।

টাটা গ্রুপ তার কর্মীদের জন্য আধুনিক পেনশন সিস্টেম, চিকিৎসা সেবা, মাতৃত্বকালীন ছুটি আর আরো অনেক সুবিধা প্রদান করে থাকেন। অনেকে হয়তো জানেন বিখ্যাত তাজ হোটেলে হামলার ঘটনায় টাটা গ্রুপ সেখানকার কর্মীদের হতাশার মধ্যে ফেলেনি। ওই উত্তপ্ত সময়জুড়ে কর্মীরা নিয়মিতভাবে তাদের বেতন- ভাতা পেয়েছেন ফলে কাজ বন্ধের কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি ওই মানুষগুলিকে। সমাজের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য টাটা সর্বদা তৎপর আর যার জন্য টাটা সমাজের উন্নয়ন কাজের জন্য কিছু প্রতিষ্ঠানের ও তৈরি করেছেন যে গুলি হল নিম্নরূপ-

1) দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, 2)ন্যাশনাল সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস,3)টাটা সেন্টার ফর টেকনলজি অ্যান্ড ডিজাইন অ্যাট ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনলজি, 4) দ্য জেআরডি টাটা ইকোটেকনলজি সিন্টার, 5) টাটা ক্রিকেট একাডেমি,6) টাটা ফুটবল একাডেমি, 7) টাটা সেন্টার ফর টেকনলজি অ্যান্ড ডিজাইন অ্যাড আইআইটি বম্বে, 8) টাটা ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনিং সেন্টার, 9) টাটা মেডিক্যাল সেন্টার, 10) টাটা মেমোরিয়াল হসপিটাল ইত্যাদি।অন্যদিকে টাটা ঘোষণা করেছে যে তারা ভারত থেকে পুরোপুরিভাবে ম্যালেরিয়া হাঁটাতে ব্যাঙ্গালুরুতে গড়ে তুলবে টাটা ইনস্টিটিউট অফ জেনেটিক অ্যান্ড সোসাইটি। আর এই জন্য খরচ করা হবে 70 মিলিয়ন ডলার।

আর মানব কল্যাণে টাটার মতো এমন বিনিয়োগ এর উদাহরণ আর কোন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারেনি। আর মূলত এই কারণে তিনি ধনী ব্যক্তির তালিকায় নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন নি। তবে সেই ধনী তালিকায় নিজের নাম নথিভুক্ত না করতে পারলেও তিনি প্রত্যেকটি ভারতবাসীর হৃদয়ে নিজের নাম খোদায় করতে পেরেছেন।