থেমে গেল হাসি, না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রাজু শ্রীবাস্তব

থেমে গেল হাসি। সবকিছু যেন এক নিমিষে শেষ হয়ে গেল। মৃত্যু ছিনিয়ে নিলো লক্ষ লক্ষ মানুষের মন ভালো করে দেওয়ার কারণ। রাজু শ্রীবাস্তব চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ৫৮ বছর বয়সে এমস হাসপাতালে মৃত্যু হল তার। দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির এমস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। আক্রান্ত ছিলেন হৃদরোগে। গত ৪২ দিন ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই কৌতুক শিল্পী।

গত ১০ আগস্ট হার্ট অ্যাটাক হয়ে দিল্লির এমস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় রাজু শ্রীবাস্তবকে। মাথার সিটি স্ক্যান করলে জানা যায় মাথার মধ্যে রয়েছে একটি ফোলা ভাব। ১৫ দিন পর জানা যায় মস্তিষ্ক আর সাড়া দিচ্ছে না। এনজিওপ্লাস্টিক করে জানা যায়, হার্টের এটি বড় অংশে প্রায় ১০০ শতাংশ ব্লকেজ। ফিরে আসার সুযোগ খুব কম।

অবশেষে আজ সকালে সমস্ত ইহলোকের মায়া ছেড়ে দিয়ে পরলোক গমন করলেন এই কৌতুকশিল্পী। পিছনে রেখে গেলেন স্ত্রী শিখা, মেয়ে অন্তরা, ছেলে আয়ুষ্মান, বড় ভাই সিপি শ্রীবাস্তব, ছোট ভাই দিপু, ভাগ্নে মায়ান্ত এবং মৃদুলকে।

২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজু। কাজের সূত্রে কিছুদিন আগেই গিয়েছিলেন দিল্লিতে বড় বড় নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে। ১০ আগস্ট দিল্লির একটি জিমে ওয়ার্ক আউট করতে করতে হঠাৎ করে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পড়ে যান ট্রেড মিলে। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় রাজুকে। তখন থেকেই শুরু হয় চিকিৎসা।

এই প্রসঙ্গে রাজুর পি আর ও গর্ভিত নারাং বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতির জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে রাজু শ্রীবাস্তব এসেছিলেন দিল্লি। বৈঠকের সময় ঠিক করার পর তিনি বুধবার সকালে নিজের রুম থেকে জিমে যান। সেখানেই হার্ট অ্যাটাক হয়। ঐদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা এনজিওপ্লাস্টি করে যার ফলে জানা যায় হার্টে ব্লকেজ রয়েছে। পালস রেট ছিল ৬০ থেকে ৬৫-র মধ্যে। এরপর থেকে মস্তিষ্ক আর সাড়া দেয়নি।

কানপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সতীশ নিগম এমস হাসপাতালে গেছেন বারংবার। উন্নও সদরের বিধায়ক পঙ্কজ গুপ্ত বারবার ফোনে যোগাযোগ রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ক্রমাগত আপডেট দেওয়া হয়েছে কৌতুক শিল্পীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে, রাজু শ্রীবাস্তবের শারীরিক অবস্থার উন্নতি কামনা করে বারবার পোস্ট করেছেন বহু মানুষ। অমিতাভ বচ্চন বিশেষ অডিও বার্তা পাঠিয়ে বলেছিলেন, দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এখনো সবাইকে অনেক হাসানো বাকি আছে।

রাজুর ভাই তথা কৌতুক অভিনেতা দিপু শ্রীবাস্তব বলেছেন, দাদার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটছিল কিন্তু খুব ধীর গতিতে। সকলের বার্তা বার বার পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল দাদার কাছে। দাদার নিজের বলা জোকস বারবার শোনানো হচ্ছিল দাদাকে যাতে কিছুটা সেরে ওঠেন তিনি। কিন্তু সবকিছুই ব্যর্থ হয়ে গেল।

রাজুর চলে যাওয়ার সাথে সাথে আরো একবার একটি প্রজন্মের স্মৃতি চলে গেল। প্রথম স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হিসেবে তিনি প্রথম দেখিয়েছিলেন, এভাবেও খ্যাতি অর্জন করা যায়। কপিল শর্মা হন অথবা ভারতী সিং, যেকোনো স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ানের কাছে রাজু শ্রীবাস্তব ছিলেন একজন আইডল।