খিদের কী লকডাউন হয়! দুর্দিনে ফুচকার হোমডেলিভারি দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন ‘গ্র‍্যাজুয়েট’ বয় রাজেশ

পশ্চিমবঙ্গে এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এর জন্য লকডাউন চলছে। আংশিক এই লকডাউনে লোকাল ট্রেন বন্ধ আছে। দোকান গুলির সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাই মানুষ এখন গৃহবন্দী। যতই লকডাউন হোক মানুষের খিদেরতো আর লকডাউন হয় না। এই দুর্দিনে বহু মানুষকে পেট চালানোর জন্য নানা কাজ করতে হয়। ব্যারাকপুরের রাজেশ দেবনাথ পেট চালানোর জন্য বেছে নিয়েছেন ফুচকা বিক্রির পথ।

 

রাজেশের বাবা সমীরবাবু সংসার চালাতেন ফুচকা বিক্রি করে। শত আর্থিক অনটনের মধ্যেও তিনি তার ছেলেকে পড়াশোনা শিখিয়েছিলেন। যাতে তার ছেলেকে তার মত কষ্ট করতে না হয়। মাধ্যমিকে 66 শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিকে 70 শতাংশ এবং কলা বিভাগে গ্র্যাজুয়েশনে 52 শতাংশ নম্বর পায়‌। তারপর রাজেশ ইছাপুরে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকুরীতে জয়েন করে।

সবই ভালই চলছিলো কিন্তু এর মাঝে বাদ সাধল লকডাউন। লকডাউনে রাজেশের চাকরিটি চলে যায়। সংসার চালানোর জন্য তাই সে আবার বেছে নিয়েছে ফুচকা বিক্রি পথ। ফুচকা বিক্রি করেই তাদের এখন দিন চলছে।

পরিবারের অভাব অনটন দূর করার জন্য সে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে ফুচকা। টক জল ফুচকা, দই ফুচকা, চাটনি ফুচকা, চিকেন ফুচকা সবই রয়েছে তার কাছে। ফুচকার অর্ডার পেলেই সে দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দিচ্ছে। এই লকডাউন কালে বাবার পাশেই যোগ্য সন্তানের মতো দাঁড়িয়েছেন রাজেশ। সারা সকাল জুড়ে সে টিউশনি পড়ায় তারপর শুরু করে ফুচকা বিক্রি। যে সময় ফাঁকা পান সেই সময়ে সরকারি চাকরির জন্য পড়াশোনা করেন। রাজেশ জানিয়েছেন “কোনো কাজই ছোট নয়। লোকমুখের কথাকে আমি গুরুত্ব দিই না। হেরে যেতে নয় আমি দৌড়াতে এসেছি।”