কর্মীদের ‘ছুটি বিক্রি’র উপর লাগাম টানল রেল, এবার থেকে

খরচে রাশ টানতে এবার নয়া পদক্ষেপ নিল রেল। ব্যয়ভার কমানোর জন্য এবার কর্মীদের ‘ছুটি বিক্রি’র উপর লাগাম টানল রেল। ভারতীয় রেলের তরফে  এক নির্দেশিকায়  বলা হয়েছে, বছরে বাধ্যতামূলকভাবে ২০টি সবেতন ছুটি নিতে হবে কর্মীদের।  প্রবল ক্ষুব্ধ রেলকর্মীরা কারণ তাদের মনে এই নির্দেশিকা কর্মী সংকোচনের উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।  এমনটাই অভিমত পূর্ব রেলের মেনস ইউনিয়ন এর৷  সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অমিত ঘোষ বলেন, “এটা রেলের কর্মী সংকোচনের নীতি।

 

আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি। অন্যসময় এমনিতে ছুটি মঞ্জুর করা হয় না। এখন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এমনিতে বছরে পনেরোটি সবেতন পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে কুড়ি, অর্থাৎ আগের পাওনা ছুটিকেও বাৎসরিক হিসাবে ঢোকান হবে।”

২০টি পেড লিভ  নিতে কর্মীদের আপত্তি কোথায়?

রেল অধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই সবেতন ছুটি (এলএপি) কর্মীরা সাধারণত নিতেন  না। কারণ এই ছুটিগুলো জমা হত৷ সেই জন্য কর্মীরা টাকা পেতেন। সর্বোচ্চ ৩০০ দিনের ছুটির বিপরীতে টাকা পেতেন তাঁরা। ফলে কর্মজীবনের শেষে ছুটি বিক্রি করে মোটা অর্থ জমা হত তাঁদের। তবে তিনশো’র বেশি ছুটি থাকলেও তা গ্রাহ্য হয় না। ফলে কর্মীদের বহু ছুটি নষ্ট হয়ে যায়।  অমিত ঘোষ বলেন, “প্রতি দু’বছর অন্তর দশটি ছুটি বিক্রি করতে পারতেন কর্মীরা। শুধু একটি প্রিভিলেজ পাস জমা দিতে হত। এমন ছ’বার ছুটি বারো বছরে বিক্রি করতে পারতেন কর্মীরা। সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তাঁদের।”

এবার Apple-এর পথেই হাঁটতে চলেছে Xiaomi, দেওয়া হবে না ফোনের মধ্যে চার্জার

প্রসঙ্গত  উল্লেখ্য, আগামী তিন বছরে ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই এর  পরিকল্পনা রয়েছে  রেলের (Indian Railways)। এরপর আবার ৩০ শতাংশ এবং সর্বমোট ৫০ শতাংশ কর্মী হ্রাস করতে চায় রেল। এজন্য একাধিকভাবে স্বেচ্ছাবসরের নানারকম পরিকল্পনা  তৈরির ভাবনাচিন্তা করছে রেল মন্ত্রক৷ ৫৫ বছর বয়স ও ৩৩ বছর কর্মজীবন অতিবাহিত হয়েছে, এমন কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সেইসঙগে রেল  কর্মীদের কর্মদক্ষতা নতুন করে যাচাই শুরু হয়েছে। কর্মজীবনে সক্রিয়তা, ভিজিল্যান্স কেস আছে কি না, ছুটি নেওয়ার রেওয়াজ কীরকম এসব  একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখছেন শীর্ষ আধিকারিকরা।