বছরের-পর-বছর ঘটে চলেছে একাধিক অলৌকিক ঘটনা, যা সত্যিই পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরকে গৌরবময় করে রেখেছে

কথাতেই আছে বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে বহু রহস্যজনক বিষয় থাকে। এমনই একটি রহস্য নিয়ে আমি এখন আলোচনা করব। রহস্যটি হল পুরীর মন্দির কে নিয়ে।

রাজা ইন্দ্রদ্যুন্ম প্রতিষ্ঠা করেন এই পুরীর মন্দিরকে। হিন্দু ধর্মের চারটি ধামের মধ্যে অন্যতম একটি স্থান হল পুরীর জগন্নাথের মন্দির। কয়েক হাজার বছরের তৈরি পুরীর মন্দিরে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। ১১৭৪ সালে প্রথম এই মন্দিরটির নির্মাণ কাজও আরাম্ভ হয়। পুরীর মন্দির নিয়ে যে রহস্যগুলি রয়েছে মানুষের মনে, সেইগুলো নিয়েই আজকে আমি আলোচনা করবো।

পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির

১) পুরীর মন্দিরের চূড়ার উপর যে পতাকাটি লাগানো থাকে ওই পতাকাটি সর্বদা হাওয়ার বিপরীতে ঘোরে। সন্ধ্যাবেলায় সমুদ্র পারে যখন হাওয়া প্রবাহিত হয় তখন পতাকাটি নিজে নিজেই দিক পরিবর্তন করে নেয়। কেন এমন ঘটে তার উত্তর আজো বিজ্ঞান দিতে পারিনি।

২) পুরীর মন্দিরে যে সুদর্শনচক্রটি বসানো আছে সেই সুদর্শনচক্রটিকে যেদিক দিয়েই আপনি দেখুন না কেন মনে হবে এটি আপনার দিকে মুখ করে রয়েছে।

৩) এই মন্দিরের নিকটেই হাওয়ার গতিপথ চলে প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে। সাধারণত আমরা জানি দিনের বেলায় হাওয়া সমুদ্রের দিক থেকে তটের দিকে আসে। সন্ধ্যার সময় খাওয়া তটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে আসে। কিন্তু এই নিয়মের পরিবর্তন দেখা যায় পুরীর মন্দিরে। দিনের বেলায় তট থেকে সমুদ্রের দিকে হাওয়া প্রবাহিত হয়। সন্ধ্যার সময় সমুদ্রের দিক থেকে তটের দিকে হাওয়া বয়।পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির

৪) এই মন্দিরের উচ্চতা যথেষ্টই বলে কিন্তু আজ পর্যন্ত এই মন্দিরের চূড়ায় কোনো পাখি বসেনি বা কোনো পাখি বাসা বাঁধেনি। উড়োজাহাজের গতি পথ এই মন্দিরের উপর দিয়ে তৈরি করা হয়নি।

৫) দিনের বেলায় কখনও পুরীর মন্দিরের ছায়া ভূমিতে স্পর্শ করতে দেখা যায়নি।

৬) পুরীর মন্দিরটি সমুদ্রের নিকটে অবস্থিত। তাই পুরীর মন্দির থেকে সমুদ্রের ঢেউ এর আওয়াজ পাওয়ার কথা কিন্তু পুরীর মন্দিরের সিংহদুয়ার পার হবার পরেই সমুদ্রের আওয়াজ পাওয়া যায় না। আর সিংহ দরজার থেকে বেরিয়ে এলেই সমুদ্রের জলের আওয়াজ পাওয়া যায়।পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির

৭) পুরীর মন্দিরের কাছেই শ্মশান অবস্থিত। সেখানে সবসময়ই সারি সারি মৃতদেহ জ্বলতে দেখা যায়। তাই মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে মৃতদেহ পোড়ার গন্ধ পাওয়া উচিত। কিন্তু পুরীর মন্দির থেকে আজও কোনো মৃতদেহ পোড়ার গন্ধ পাওয়া যায়নি।