ছেলের দেখাশোনার জন্য ছাড়তে হয়েছিল চাকরি, তারপর ইউটিউব থেকে ম্যাক্রম আর্ট শিখে মাসে করছেন লাখ টাকা আয়

একজন মা তার সবটুকু দিয়ে তার সন্তানকে ভালোবাসেন। একজন শিশুকে শিক্ষা দেবার জন্য সবরকম চেষ্টা করেন মা। শিশুটিকে লালন-পালন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন তিনি। এমতাবস্থায় কোন নারী যদি কর্মজীবী হন, তাহলে সন্তান লালন-পালনের ভার বহন করার জন্য অপরিসীম কষ্ট করতে হয় তাকে। একজন কর্মজীবী মা জানেন এই যাত্রা কতখানি কঠিন হয়ে যায় তাদের জন্য। কিন্তু আজ আপনাকে এমন একজন মায়ের কথা বলতে চলেছি যিনি সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেছেন।

দিল্লির বাসিন্দা পূজা কাঁথ কলেজ শেষ করার পর কাজ শুরু করেন যা বিয়ের পরেও তিনি চালিয়ে যান। ২০১২ সালে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর পূজা চাকরি ছেড়ে বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। বেশ কয়েক দিন এই ভাবে অতিবাহিত হবার পর পূজার মনে করেন তার আরো একবার নিজের পায়ে দাঁড়ানো উচিত। অবসর সময়ে ইন্টারনেটের সাহায্যে ম্যাক্রম আর্ট শিখতে শুরু করেন তিনি। ইতিমধ্যেই সেলাই এবং সূচিকর্মের প্রাথমিক জ্ঞান ছিল তাই ম্যাক্রম আর্ট শিখতে খুব একটা সময় লাগেনি তার।

এমতাবস্থায় ঘরে বসে কাজ করার নতুন উপায় এবং অর্থ উপার্জনের রাস্তা খুঁজে পেলেন পূজা। ম্যাক্রম আর্ট শেখার পর পূজা বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি নিজের বাড়ি থেকে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সন্তানের যত্নের পাশাপাশি অবসর সময়ে পাট এবং তুলার সুতোর সাহায্যে বাড়ির সাজসজ্জার সামগ্রী তৈরি করতে শুরু করেছিলেন।

ম্যাক্রম আর্ট হলো এক ধরনের হস্তশিল্প,যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শিল্প কর্ম এবং নকশা তৈরি করা যায়। ম্যক্রমের আর্ট ব্যবসা যখন নিজের গতি ধরে নেয় তখন পূজা সেটির একটি ভালো নাম দেবার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৮ সালে তিনি পূজা কি পটলি নামকরণ করেন তার ব্যবসার, যার অধীনে পূজার হস্তশিল্পের জিনিসগুলি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়।

আস্তে আস্তে ব্যবসা বড় হয়ে যায় এবং পূজা বহু মহিলাকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। পূজার পাশাপাশি বহু মহিলা যারা কিনা বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে অক্ষম, তারাও আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পূজার এই ব্যবসা বেশি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। ছেলের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পূজা প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা আয় করেন।

ম্যক্রম আর্ট শুধুমাত্র সাজসজ্জায় ব্যবহৃত হয় না, এটির মাধ্যমে সুন্দর শিল্পকর্ম তৈরি করা যায়। বুক স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বাগানের সাজসজ্জা, পাত্রের কভার সবকিছুই তৈরি করা যায়। এগুলোর দাম মোটামুটি ১০০ থেকে ৫ হাজারের মধ্যে হয়। লকডাউন চলাকালীনও পূজা প্রত্যেক সপ্তাহে কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০ টি অর্ডার পেতেন।