ফলাফল অভূতপূর্ব! শেষ হল করোনার টিকা Covaxin এর প্রথম পর্বের ট্রায়াল, মতামত প্রকাশ পর্যবেক্ষকদের

যেদিন থেকে করোনা ভাইরাস দেশজুড়ে প্রভাব বিস্তার করেছিল সেই দিন থেকেই তার ওষুধ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। ভারত ছাড়াও বিশ্বের বাকি দেশগুলো এর প্রতিশোধক বের করার কাজে দিনরাত এক করে দিচ্ছেন। তবে এখনো পর্যন্ত তেমন ভাবে সফল হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি যে খবর সামনে এসেছে তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে সাধারণ মানুষদের। Covaxin ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল সম্পূর্ণ হয়েছে। জানা গেছে প্রথম পর্যায়ে মোট 375 জন স্বেচ্ছাসেবক এর উপর এই Covaxin প্রয়োগ করা হয়েছে।

এর মধ্যে 50 জন স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে প্রয়োগ করা এই Covaxin প্রয়োগের ফলাফল সামনে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে জানা গিয়েছে এই ফলাফল যথেষ্ট সাফল্য দিয়েছে তাদের। এই Covaxin এর হিউম্যান ট্রায়ালের প্রধান পর্যবেক্ষক ডঃ সবাতা বর্মা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন যে, সারা দেশ জুড়ে Covaxin এর প্রথম পর্যায়ে হিউম্যান ট্রায়েল আপাতত শেষ হয়েছে। 50 জন স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার পর ফলাফল হাতের সামনে এসেছে।

আর এই ফলাফলে যথেষ্ট আশাবাদী তারা। কারোর মধ্যেই এই টীকার কোনরকম বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এই Covaxin আইসিএমআর এবং ন্যাশনাল ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট এর গবেষকরা যৌথ উদ্যোগে এটি তৈরি করেছেন। সম্প্রতি 13 জুলাই থেকে এই ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়েল শুরু হয়। জানা গিয়েছে যে মোট 1100 জন স্বেচ্ছাসেবকের উপর এই Covaxin প্রয়োগ করা হয়। আইসিএমআর এর তরফ থেকে এই ট্রায়াল করার জন্য হায়দ্রাবাদের নিজাম ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স যেটি দিল্লিতে অবস্থিত এবং পাটনার AIIMS সহ আরো বড় বড় 12 টি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক তাদের দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। আইসিএমআর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রতিশোধক তৈরির ওপর কোনোরকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না। প্রতিশোধক তৈরীর ক্ষেত্রে সমস্ত রকম নিয়ম কানুন মেনে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলি এবং ভবিষ্যতেও মেনে চলবে সমস্ত নিয়মকানুন। সমস্ত রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ সফল হওয়ার পরেই আইসিএমআর এর তরফ থেকে ওই ভ্যাকসিনকে বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে।