ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে কেন জাতীয় পতাকা প্রত্যাখ্যান, অভিষেকের নিশানায় জড়ালেন জয় শাহ

২৮ আগস্ট ২০২২, দিনটা সকলের মনে থাকবে। ঠিক দশ মাস চার দিন আগে অর্থাৎ ২৪ অক্টোবর ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১০ উইকেটে হেরে গিয়েছিল আমাদের টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে এবার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া এবং যার ফলাফল আমাদের সকলের সামনে। দুবাইয়ের মাটিতে পাকিস্তান খেলোয়াড়দের পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দিল টিম ইন্ডিয়া এবং সাথে সাথে উচ্ছ্বাসে উৎফুল্ল হয়ে পড়ল গোটা ভারতবর্ষ।

তবে এতকিছুর পরেও একটি ভিডিও আমাদের মনে কাঁটার মতো বিধছে। অমিত শাহ পুত্র জয় শাহ এমন একটি আচরণ করলেন যা কার্যত মেনে নেওয়া যায় না। যে ভিডিওটি নিয়ে সরব হয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনীতি মঞ্চ সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলের দিকে একটি জাতীয় পতাকা এগিয়ে দিচ্ছিলেন বিসিসিআইয়ের সচিব তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি। কিন্তু জয় শাহ সেটা নিতে প্রত্যাখ্যান করে দেন।

 

এমনি দৃশ্য দেখার পর সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মঞ্চ। ভিডিওটি সকলের সামনে তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দেশের একাধিক বিরোধী দল জয়কে কটাক্ষ করেছেন। কটাক্ষ করা হচ্ছে নেট দুনিয়াতেও। এবার চলুন একটু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক কি রয়েছে সেই ভিডিওতে।

টানটান উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচের শেষে গ্যালারি যখন ভারতের জয় ধ্বনিতে মুখরিত, যখন সকলেই ভারতীয় ক্রিকেটারদের বাহবা দিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই জনৈক ব্যক্তি জয় শাহের দিকে একটি জাতীয় পতাকা এগিয়ে দিচ্ছেন। সেই সময় জয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধূমাল। পতাকাটি এগিয়ে দিলেও জয় সেটি না ধরে হাততালি দিতে দিতে মাথা দুলিয়ে প্রত্যাখ্যান করে দিলেন। ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায়।

এই ভিডিওটি টুইট করে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এই বিষয়টা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারদের মধ্যে একজন লিখেছেন, এই কাজ যদি কোন অ বিজেপি নেতা করত তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যা দেওয়া হত। কিন্তু এ তো স্বয়ং বিজেপি নেতা জয় শাহের ছেলে। এবার কি বলা উচিত?

প্রসঙ্গত, এমন একটা হাই ভোল্টেজ ম্যাচে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন না বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বদলে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সচিব। তিনি এই বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।