ভারতীয় মুদ্রাকে শক্তিশালী করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন পদক্ষেপ। বিশ্বের সবথেকে বড় চুক্তি স্থাপন করল ভারত ও জাপান।

জাপান সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী দুজনার মধ্যে বিশ্বের সবথেকে বড় কারেন্সি শুয়াইব এগ্রিমেন্ট (Currency Swap Agreement) সম্পন্ন হলো। সোমবার জাপানে ভারত-জাপান দ্বিপক্ষীয় 75 বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়। সিএসএ বা কারেন্সিজ শুয়াইব এগ্রিমেন্ট (CSA) এর সাহায্যে দেশে বিদেশি মুদ্রার স্থির অবস্থায় আনা সম্ভব হয়। 20টির বেশি দেশে রয়েছে যাদের সাথে ভারত সিএসএ করে থাকে। সিএসএ-এর মাধ্যমে নানা দেশগুলি ডলার বা ইউরোর পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবসা করে এর ফলে ‌বিদেশি মুদ্রার এক্সচেঞ্জের সমস্যা দূর হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইউরও ডলার ব্যবহার করার ফলে কোন একটি দেশের অর্থনীতির ওপর বিশেষ প্রভাব পড়ে ।

এর হাত থেকে বাঁচার জন্যই মোদি সিএসএ ব্যবস্থাটি ব্যবহার করে থাকেন। ভারত বর্তমানে কুড়িটির বেশি দেশের সঙ্গে সিএসএ প্রথার দ্বারা যুক্ত, কিন্তু এটি প্রথম সর্বাধিক মূল্যের সিএসএ করলেন মোদি জাপানের সাথে।সিএসএর আরো একটি দিক হলো দুটি দেশের মধ্যে আমদানি আগের থেকে নির্ণয় করা দেশের নিজস্ব মুদ্রার ওপর ভিত্তি করে হয়, যার জন্য তৃতীয় কোন দেশ এর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, ইরান, ইরাক, কাতার,ওমান, ভেনিজুয়েলা ইত্যাদি দেশের সঙ্গে ভারতের সিএসএ প্রথা চলে আসছে।

এইসব দেশগুলি থেকে তেল আমদানি করার সময় সিএসেএ অনেক অর্থনৈতিক দিক সামলে নেয়। এছাড়াও জাপান, সিঙ্গাপুর, সাউথ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, ভেনিজুয়েলা, মেক্সিকো, সৌদি আরব ইত্যাদি আরো নানা দেশের সাথে সিএসএ আছে ভারতের। সিএসএ এর জন্য কোন আমদানিকারী দেশের মুদ্রা দুর্বল হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। জাপানের সঙ্গে ভারতের এটি সবথেকে বড় সিএসএ প্রথা হয়েছে। ভারতের অর্থনীতিকে মজবুত রাখতে এবং ভারতীয় মুদ্রা দেশে প্রচার করার জন্য নরেন্দ্র সিং মোদীর এটি একটি বড় পদক্ষেপ।