দেশজুড়ে করোনা মোকাবেলায় আগামী 8 ই এপ্রিল সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি….

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য 8 ই এপ্রিল সর্বদল বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে করোনা মোকাবিলা করার জন্য এখনো পর্যন্ত একবারও বিরোধী দলের সঙ্গে বৈঠক করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর এই বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে কেন তিনি সর্বদল বৈঠক করছেন না। ফলে অবশেষে 8 এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সর্বদল বৈঠক ডাকলেন। অপরদিকে করোনা মোকাবিলা করার জন্য কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয় এ নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, পি চিদাম্বরম সহ আরো অনেকেই।

আবার অনেকেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন এ সম্পর্কে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ নিয়ে সরাসরি কারো সাথে আলোচনায় বসেননি। কিন্তু এবার তার নিজের জায়গা থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হলেন তিনি। এ নিয়ে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী জানান, 8 এপ্রিল বেলা এগারোটার সময় করোনা মোকাবিলায় সর্বদল বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।’ এছাড়াও তিনি আরও জানিয়েছেন,’ যেহেতু সারাদেশ জুড়ে এখন লকডাউন চলছে, তাই লকডাউন এর নিয়ম মেনে এই বৈঠক হবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

তবে যে দল গুলির 5 জনের বেশি সাংসদ আছে সংসদের দুই কক্ষ তাদের নিয়েই বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী এমনটা জানানো হয়েছে। করোনা সংক্রমনের প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বিরোধী দলের নেতারা থাকলেও কিছুদিন পরে তার বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তারা। কয়েকদিন আগে কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী জানিয়েছেন,’ কোন রকম পরিকল্পনা ছাড়াই কেন্দ্র সরকার লকডাউন ঘোষণা করে দিল ফলে যারা ভিন্ন রাজ্য থেকে কাজে এসছে বা ভিন রাজ্যে কাজে গেছে তাদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।

এর জবাবে আবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন,’ কংগ্রেস এ নিয়ে সংকীর্ণ রাজনীতি করছে।’ রাহুল গান্ধী বলেন,’ ভারতের থেকে পাকিস্থানে বেশি মানুষ টেস্ট হচ্ছে। সেই দিক থেকে পাকিস্তানের থেকে ভারত অনেক পিছিয়ে রয়েছে। হাততালি দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে করোনা মোকাবিলার কোন সূত্র পাওয়া যাবে না।’ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের আতঙ্ক যাতে ক্ষোভে পরিণত না হয় তার জন্যই বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লকডাউন ওঠার পর ঠিকই কি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত সেই সম্পর্কেও বিরোধী দলগুলোর কাছে মতামত নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও এর আগে করোনা মোকাবিলার জন্য প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দের সঙ্গে দুবার ধরে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি।