বাংলার বন্যাদুর্গতদের পাশে রয়েছেন তিনি, আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করে বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাজ্যের একাধিক এলাকা জলমগ্ন, ডুবেছে চাষের জমি, ভেঙে গেছে বাড়ি ঘর, সম্বল হারা হয়েছেন একাধিক সাধারন মানুষ, প্রাণ হারিয়েছে অন্ততপক্ষে ২৫ জনের। বুধবারই বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী কে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খোঁজ নেন বন্যা বিধ্বস্ত বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির। এরপরই বন্যা দুর্গতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বেশকিছু জেলা। তার ওপর জলোচ্ছ্বাসের কারণে একাধিক বাঁধ ভেঙে গেছে। ভেসে গেছে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়ার মত বেশ কয়েকটি গ্রাম। প্রকৃতির এই দুর্বিষহ খেলায় ঘরছাড়া বহু সাধারণ মানুষ। বন্যার ফলে সমস্যা দেখা গেছে খাবার ও পানীয় জলের। তবে এদিন বন্যা বিধ্বস্ত বাংলার পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে একাধিক এলাকায় পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রশাসনিক কর্তাদের তাৎক্ষণিক উপযুক্ত ব্যবস্থার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকা পরিদর্শন করতে এসে DVC কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি প্রধানমন্ত্রী যখন মুখ্যমন্ত্রী কে ফোন করে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তখন মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী কে জানান DVC জল ছাড়ার কারণে ভেসে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। এটি একটি MAN MADE বন্যা’।

তিনি আরো বলেন DVC জলাধারের পলি পরিষ্কার করা হয় না, পরিষ্কার থাকলে অতিরিক্ত জল ধরে রাখা সম্ভব হতো। মুখ্যমন্ত্রী থেকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বাংলায় বন্যায় নিহত ও আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া টুইটার অ্যাকাউন্টে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং জখম ব্যক্তিদের মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এখনো অব্দি বন্যার যে রে পশ্চিমবঙ্গে ২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। যেখানে জলে ডুবে গিয়েছেন ৭ জন, দেওয়ালে চাপা পড়ে মারা গেছেন ৬ জন, বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জন, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন ২ জন এবং ধ্বসে চাপা পড়ে মারা গেছেন ৪ জন।