নতুন খবরবিশেষরাজনৈতিক

সই করলেন রাষ্ট্রপতি, আইন হিসাবে চালু হল উচ্চবর্ণের জন্য 10 শতাংশ সংরক্ষণ।

মোদি সরকার দেশের উচ্চবর্ণের জন্য যে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা চালু হয়ে গেল। রাষ্ট্রপতি ও কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। আমরা জানি চলতি সপ্তাহেই এই বিলটি সংসদে পাস হয়ে গেছে। আর সংসদে পাস হওয়ার পরেই শনিবার রাত্রে এই বিলটি যায় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে। রাষ্ট্রপতি এই বিলটিকে শনিবার রাত্রে স্বাক্ষর করে দেন। এই নতুন বিল টিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এবার থেকে 10% সংরক্ষণ দেওয়া হবে দেশের আর্থিক দিক থেকে দুর্বল উচ্চবর্ণের মানুষেদের।

অবশ্য বিলটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়নি। এর মধ্যেই বিলটি আইনে পরিণত হয়ে গেল। যে সমস্ত পরিবারের আয় বার্ষিক 8 লক্ষ টাকার নিচে অথবা 51 রেট বেশি জমি থাকবে না সেই সব পরিবারের সদস্যরা এই সংরক্ষণ এর আওতায় পড়বে। লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কদিন আগেই শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে এই বিলটি পেশ করে মোদি সরকার। এই বিলটির কথা শুনে বিরোধীরা মন্তব্য করেন, বর্তমানে দেশের বেকারত্বের হার যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে তখন ভোট পেতে এই সংরক্ষণের বিলটি পেশ করা হয়েছে। এই সমস্ত কিছুই লোক দেখানো। বিরোধীরা মুখে নানান কথা বললেও সংসদে এই বিলটির বিরোধিতা করতে কোন বিরোধী দলকে দেখা যায়নি। কারণ সামনে বিরাট বড় লোকসভা নির্বাচন। তাই সবারই সম্মতি থাকার কারণে চলতি সপ্তাহেই সংসদে পাশ হয়ে যায় এই বিল।

মঙ্গলবার এই বিল লোকসভায় পাশ হয়। তারপরের দিন এই অর্থাৎ বুধবারে রাজ্য সভায় পাশ হয়ে যায়। বিরোধী দলগুলির সহযোগিতা করার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে বিল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এত হইচই, তাতে সাধারণ মানুষ কি উপকৃত হবেন? সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে গত 15 মাসে বেকারত্বের হার যা ছিল তার থেকে গত মাসে বেকারত্বের হার আরও বেড়ে গেছে। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি সংস্থার এক তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে সারাদেশে প্রায় 1 কোটি 10 লক্ষ মানুষ কাজ হারিয়েছে।

যার মধ্যে প্রায় প্রচার 85 শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে গ্রামীণ এলাকার মানুষেরা। এছাড়াও অনেকেই দাবি 2017 সাল থেকে জিএসটি কর চালু করায় অনেক ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিক এমনই একটি পরিস্থিতিতে এই সংরক্ষণের নতুন আইন মোদি সরকারের জন্য খুব একটা কার্যকর হবে না বলে মত প্রকাশ করেছেন অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Back to top button