24 শে মোদিকে হারাতে সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলিকে ব্রম্ভাস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে প্রশান্ত কিশোর, শুরু প্ল্যানিং

আমরা বিধানসভা ভোটের আগে দেখেছি তৃণমূলকে আবারো পশ্চিমবঙ্গের সিংহাসনে বসার জন্য সাহায্য করেছিলেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর। প্রথম থেকেই তিনি দাবি করেছিলেন ২১ এর বিধানসভা ভোটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ১০০ টির বেশি আসন পাবে না। অপরদিকে বলেছিলেন তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবে ২০০টিরও বেশি আসন নিয়ে। ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পর তার এই কথাটি অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে। বাংলায় শাসনে বিজেপিকে আসছে না দেওয়ার পর দিল্লীর সিংহাসন থেকে বিজেপিকে সরানোর জন্য এবার কাজ শুরু করেছেন প্রশান্ত কিশোর।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ১০০ টিরও বেশি আসন পাবে না আর অপরদিকে তৃণমূল সরকার ২০০ টিরও বেশি আসন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সিংহাসনে বসবে। আর এই অনুমান যদি ঠিক না হয় তাহলে তিনি নিজের কাছ থেকে অবসর নেবেন বলেও চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

ভোটের সমসাময়িককালে প্রশান্ত কিশোরের একটি ক্লাব হাউসের চ্যাট লিক হয়ে যায়। সেখানে বলেছিলেন প্রশান্ত কিশোর , বাংলায় মোদী ঝড় উঠেছে। এরপরে তিনি বলেছেন যে, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বাংলায় বিজেপি ১০০-র গণ্ডি পারও করতে পারবে না। ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর দেখা যায় তার এই কথাটি একদম সত্যি কারণ বিজেপি বাংলায় ৭৫টি আসনেই থমকে যায়।

বাংলা থেকে বিজেপিকে সরানোর পর দিল্লির সিংহাসন থেকে বিজেপিকে সরানোর জন্য প্রশান্ত কিশোরের আঞ্চলিক দলগুলোকে একত্রিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এক সূত্র মারফত খবর পাওয়া যায় কদিন আগেই প্রশান্ত কিশোর এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তিনি তাঁর পরিকল্পনার কথাও শরদকে জানিয়েছেন।

ওইদিন শরদ পাওয়ারের সাথে পিকের প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক চলে। প্রশান্ত কিশোর একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শরদকে বুঝিয়েছিলেন কিভাবে দিল্লি থেকে বিজেপি সরকারকে সরানো যায়। এই প্রসঙ্গে পিকে আরো বলেছেন যে, সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলি যদি একত্রিত হয় তাহলে বিরোধীরা ৩০০টির বেশি আসন নিয়ে দিল্লির সিংহাসনে আসবে এবং বিজেপিকে পরাজিত করতে পারবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিজেপির বিরুদ্ধে প্রশান্ত কিশোরের স্ট্রাইকরেট ৯০% । কারণ যে রাজ্যে প্রশান্ত কিশোরী বিজেপির বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেন সেখানে বিজেপি পরাজিত হয়। তবে ২০১৭-র উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরকে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল। সেখানে পিকে কংগ্রেস-সমাজবাদী জোটের হয়ে লড়াই করেছিলেন কিন্তু সেই নির্বাচনে দেখা গেছিল বিজেপি অদ্ভুত পূর্ণ সাফল্য অর্জন করে উত্তরপ্রদেশের সিংহাসনে বসতে।