তৃণমূলের সময়কালে পুলিশ অনেক মানবিক হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্বয়ং SP নাগেন্দ্র ত্রিপাঠী

২১ এর বিধানসভা ভোটে আমরা সকলেই দেখেছি নন্দীগ্রামের বয়ালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) সাথে বচ্চসায় জড়িয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশ পর্যবেক্ষক নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই পুলিশ পর্যটক জানিয়েছিলেন, ‘উর্দিতে কোনও দাগ লাগতে দেব না’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) মুখের উপর জবাব দেওয়া ওই পুলিশ অফিসারটি আজ রাজ্য সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

গত বৃহস্পতিবার ‘আপনার পাড়ায় আপনার থানা’ পরিষেবার উদ্বোধন করতে এসে পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, “গত সরকারে(পড়ুন বাম সরকারে) পুলিশ ছিল শাসকের ভূমিকায়। আর ২০১১ সালে মা মাটি মানুষের সরকারে পুলিশের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। পুলিশ এখন মানবিকও।”

এর পাশাপাশি তিনি আরো জানিয়েছেন যে, “পুলিশ আগেও কাজ করত। কিন্তু গত সরকারে পুলিশ ছিল শাসকের ভূমিকায়। আগে পুলিশ সম্বন্ধে ধারনা ছিল, পুলিশ লাঠি হাতে এসে দুষ্ট লোককে ধরে নিয়ে যাবে। কখনও ভাল লোককেও ধরে নিয়ে যেত। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সারা বাংলায় কমিউনিটি পুলিশিং বেড়েছে। জঙ্গলমহল কাপ, রাঙামাটি কাপ খেলা হল। রক্তদান শিবির হচ্ছে। মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের পাশে থাকছে পুলিশ।” এই দিনের এই পুলিশ সুপারের মন্তব্যের সাথে ভোট মুহূর্তে তার বক্তব্যকে কখনোই মেলানো যায় না। রাজনৈতিক মহল তার এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য বলেই মনে করছে।

এবার থেকে কোনো সমস্যায় পড়লে কোনো মানুষকে অভিযোগ দায়ের করার জন্য আর ছুটে যেতে হবে না থানায়। তাদের পাশেই সবসময় আছে পুলিশ এমনই এক পরিষেবা চালু হয়েছে বীরভূমে। তাঁর নাম ‘আপনার পাড়ায় আপনার থানা’। গ্রাম পঞ্চায়েতে অভিযোগ জমা দেওয়ার বাক্স থাকবে। মানুষের অভিযোগগুলি লিখে সেই বাক্সতে জমা দিতে হবে। আর প্রতি সপ্তাহে পুলিশের একজন অফিসার এসে সেই বাক্সগুলো খুলে অভিযোগ দেখবেন।

অফিসার যখন পঞ্চায়েতে আসবেন গ্রামবাসীরা সেখানে গিয়েও অফিসারের কাছে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করতে পারে। ওই পুলিশ সুপার জানিয়েছেন এমন অনেক সমস্যা আছে যেগুলো জানানোর জন্য মানুষ কখনোই থানার দ্বারস্থ হয় না। যেমন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক, স্কুলের সামনে ইপটিজিং। কিন্তু পাড়ায় পুলিশকে পেলে এই সমস্ত সমস্যাগুলোর বিষয়ে মানুষ পুলিশের কাছে মুখ খুলতে পারবে। এই বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক জানিয়েছে, “দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন করবে পুলিশ।

যারা দুষ্কৃতী তাদের জন্য কঠোর। যারা সাধারণ মানুষ, নিয়ম মেনে চলে তাদের পাশে থাকবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রাণিত পুলিশ। ব্রিটিশ আমলের খাকি পোশাকের যে ভীতি, তা কাটিয়ে এখন পুলিশ এ রাজ্যে মানুষের বন্ধু হতে চায়।সেই উদ্যোগ শুরু হল চিকিৎসক দিবসের দিনেই।”