১০ বছর আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মেয়েকে মৃত বলে চালিয়ে দিয়েছিল ১৭ জন অফিসার, খুঁজে বের করলো DSP আশিষ প্যাটেল

অনেক সময় আমরা পুলিশের নির্যাতনের কথা শুনতে পাই। কিন্তু সাহসী পুলিশের কথা অথবা ক্রিয়াকর্ম আমরা অনেক সময় জানতে পারি না অথবা শুনতে পাইনা। আজ এমন একজন পুলিশ অফিসারের কথা বলতে চলেছি যিনি অসাধারণ একটি কাজ করে খবরের শিরোনামে এসেছেন। মধ্যপ্রদেশের ডিএসপি সহ ১৭ জন পুলিশ অফিসার যখন হাল ছেড়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন একজন মহিলাকে খুজে বার করতে, ঠিক তখনই আশীষ প্যাটেল সেই মহিলাকে খুজে বের করেছিলেন যাকে সকলে মৃত বলে মনে করেছিলেন।

 

চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘটনাটি। একজন মহিলা যাকে তার পুরো পরিবার ১০ বছর ধরে মৃত বলে মনে করেছিলেন। শুধু তাই নয়, যে ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের প্রায় দেড় ডজন পুলিশ আধিকারিক হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেই মহিলার খোঁজ অবশেষে করলেন ডিএসপি আশীষ প্যাটেল। সকলকে ভুল প্রমাণিত করে অবশেষে সেই মহিলাকে খুজে বার করতে সক্ষম হলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের সামনে ডিএসপি জানিয়েছিলেন, ১৮ তমা তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। তিনি একটি অভিনব পদ্ধতি অনুসরণ করে সেই মহিলাকে খুজে বের করে ছিলেন যিনি ১৭ বছর আগে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়া জেলার কোটরা গ্রামের কালো মরির মেয়ে সন্তোষী মরি। ১৭ বছর বয়সী হঠাৎ করে মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে যায়। ২০১১ সালের মে মাসে সন্তোষী নিখোঁজ হয়ে যাবার পর তার সম্পূর্ণ পরিবার তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।

অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও যখন সেই মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়া যায় না তখন পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে নিখোঁজ রিপোর্ট লিখেছেন। থানায় গিয়ে তারা জানান, বাড়িতে সকলের সঙ্গে কিছু সমস্যা হবার পর স্নান করতে চলে যায় সেই মেয়েটি। কিন্তু স্নান করতে গেলেও ফিরে আসে না বাড়িতে। তারপর থেকেই খোঁজ করা শুরু হয়ে যায়। অনেকেই মনে করেন নিশ্চয়ই মেয়েকে কুমিরে খেয়ে নিয়েছে। বহু খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি গ্রামবাসীও সেই মেয়েটিকে মৃত বলে মনে করেন।

ঠিক সেই সময় আসিশ প্যাটেল মহিলা সুরক্ষা সেলের ডিএসপি পদে নিযুক্ত ছিলেন। যখন এই মামলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায় তখন মামলাটি ডিএসপি হাতে হস্তান্তরিত হয়। ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ওফ পুলিশ আশীষ প্যাটেল বলেছিলেন, নিখোঁজ মেয়েটির মামলা তদন্ত করতে গিয়ে মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রথা ছিল, মেয়েদের বিয়ের সময় বর পক্ষ থেকে টাকা নেওয়া হয়। তাই সন্তোষীকে টাকার লোভে বেচে দেওয়া হয়েছে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছিল।


ডিএসপি নিখোঁজ মেয়েটির খোঁজ নেওয়ার জন্য গোপালের বেশ কিছু জায়গায় খোজ করতে শুরু করেন এবং ভোপালের একস্থানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের পোশাক পরিহিত এক মেয়ের কথা জানতে পারা যায় এবং সন্তোষীকে ফিরে পাওয়ার একটি আশা জাগে সকলের মনে। গোপালের ওই অঞ্চলে পুলিশ ব্যাংকের কর্মী সেজে ওই অঞ্চলে যান এবং দেখা করতে চান সন্তোষীর সাথে। অবশেষে সন্তোষীকে চিনতে পারা যায় এবং তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।