ভোটের আগে ১২৬ বার দিদি শব্দটি শোনা গেল প্রধান মন্ত্রীর গলায়

রাজ্যে বিধানসভা ভোট শুরু হয়ে গেছে। প্রথম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্বের ভোট সমাপ্ত হয়েছে এবার চতুর্থ দফার ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জোড়া সমাবেশ করেন ১০ এপ্রিল। ভোট প্রচারের জন্য গতকাল শনিবার ১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দুটি সমাবেশ ছিল একটি শিলিগুড়িতে এবং অপরটি কৃষ্ণনগরে। এই দুটি সমাবেশে ভাষণ রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ১২৬ বার দিদি বলে ডাক দেন।

 

২০১৪ সাল থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে উঠলে মোদি দিদি দিদি বলে সম্বোধন করেন মমতা ব্যানার্জিকে। পশ্চিম বাংলার বাইরে মোদীর সভা থাকলেও সেখানে যদি বাংলার প্রসঙ্গ আসে সেক্ষেত্রে তিনি দিদি বা দিদি সরকার বলেই কথা বলেন। সাত বছর আগে থেকেই নরেন্দ্র মোদির গলায় দিদি শব্দটি শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে বাংলার মানুষেরা। তবে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে নতুন সংযোজনের মাধ্যমে নানা সুরে ‘দিদি-ই-ই-ই’ বলা শুরু হয়।

আর ২০২১এ বিজেপি বনাম তৃণমূলের এই লড়াইয়ে এই সুর যেন নতুন মাত্রা দান করেছে। ভোট পর্বগুলি একে একে যতই শেষ হচ্ছে মোদির গলায় দিদি শব্দটি উচ্চারণ ততো বেশি বাড়ছে। আর গত শনিবার মোদির গলায় সবথেকে বেশি দিদি শব্দটি শোনা গেল। এদিন‌ শিলিগুড়িতে ৪৪ মিনিটে ৬৮ বার আর কৃষ্ণনগরে ৩৪ মিনিটে ৫৮ বার দিদি শব্দটি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এই ধরনের সুরে দিদি বলা ভঙ্গিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কোনো প্রতিবাদ না করলেও তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীরা এই বিষয়ে শবর হয়েছেন। তাদের মতে প্রধানমন্ত্রী এই ভঙ্গিতে দিদি বলার মাধ্যমে বাংলার মা বোনদের অসম্মান করছেন। মহিলাদের অসম্মান করবার জন্য এই ধরনের বচন ভঙ্গি ব্যবহার করা হয়। অবশ্য মোদির এই সুরে দিদি বলার জন্য মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘‘উনি রোজ ‘দিদি’, ‘ও দিদি’ বলে ব্যঙ্গ করছেন। আমার তাতে কোনও সমস্যা নেই। আমার গুরুত্ব রয়েছে বলেই এ সব করছেন।’’

ভোটে জয়লাভ করার জন্য বিভিন্ন সমাবেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মুখে যে শব্দগুলি সম্প্রতি বেশি শোনা যাচ্ছে সেগুলি হল ‘কাটমানি’, ‘তোলাবাজি’, ‘সিন্ডিকেট’, ‘তুষ্টিকরণ, ‘দিদি’। এই সমস্ত শব্দকে নিচে ফেলে রেখে প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে দিদি শব্দটি। মোদি ৩০ মিনিটের বক্তৃতায় যদি ৬০ বার ‘দিদি’ শব্দটি উচ্চারণ করে থাকেন তবে তার মধ্যে বার দশেক মতো প্রথম ১০ মিনিটে বার দশেক। শেষ ১০ মিনিটেও বার দশেক।

 

আর মাঝের সময়ে ধ্রুপদী সঙ্গীতের ভাষায় ন্যায় ‘ঝালা’-য় ওঠে যেন এই ‘দিদি’ ডাকটি। ওই ১০ মিনিটেই প্রধানমন্ত্রী অন্তত ৩০ বার ‘দিদি’ ডাক দেন। পরিশেষে বলতে পারি এই দিদি ডাকটি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেশ মজাই পান। দর্শকদের কাছ থেকে অনেক হাততালিও জোগাড় হয় এই প্রধানমন্ত্রী ঝুলিতে।