প্রধানমন্ত্রীর আবেদন করার পরও নতুন করে আবারো হিংসা,ভয়ে দিল্লি ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন বাঙালি শ্রমিকেরা…

আতঙ্কে ভয়ে যাই বলি না কেন রাতের ঘুম যেন উড়ে গেছে দিল্লিবাসীর। চোখে স্পষ্ট আতঙ্কের চিহ্ন রয়েছে তাদের। প্রাণের ভয়ে দিল্লি ছেড়ে চলে আসতে হচ্ছে বহু বাঙালি শ্রমিককে। বেতন বাকি এমন কী ওই রোজগারে কারো কারো সংসার চলে তা সত্ত্বেও নিজের প্রাণ বাঁচাতে কাজ ছেড়ে চলে আসতে হচ্ছে সেসব শ্রমিকদের। অশান্ত কর্দমপুরীতে মালদহ থেকে যে সমস্ত শ্রমিকরা কাজে গিয়েছিলেন তারা এখন লাইন দিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বুধবার টুইট করে প্রধানমন্ত্রী সেখানে শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও হিংসা থামছে না।

এই হিংসার ফলে 27 জনের প্রাণ গিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এবং প্রায় 200 জনের বেশি আহত হয়েছেন। সন্তানের লেখাপড়া, মা বাবার চিকিৎসার খরচ চালানো এই সমস্ত কিছুর জন্যই রোজগার করার তাগিদে দিল্লি যাওয়া। তবে বর্তমানে সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে চুরমার কারণ নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে চলে আসতে হচ্ছে শ্রমিকদের। কর্দমপুরীতে খেটে খাওয়া মানুষদের বসবাস ছিল। এখন ওই অঞ্চলে 144 ধারা, কারফিউ জারি। এই সময়ে কার ভরসায় ওই অঞ্চলে কাজ করবেন শ্রমিকরা।

তাই নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য নিজের নিজের বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন সবাই। মাত্র 72 ঘণ্টার মধ্যে একবারে উল্টে গেল কর্দমপুরী। এখানকার প্রত্যেকটা অলিগলি তাণ্ডবের সাক্ষী হয়ে গেল। এখন শুধু ভেসে আসছে আতঙ্কের আর্তনাদ। সেখানকার গ্রামবাসীরা একটাই প্রার্থনা করছে কবে হিংসা মিটবে। সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটারে বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতি দেশের মূল ভিত্তি। দিল্লির ভাই ও বোন এদের শান্তি বজায় রাখার জন্য আবেদন করছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, ” দিল্লিতে শান্তি ফিরিয়ে আনা এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে পুনরায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজিত দোভালকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর সেখানে দুপুরে পৌঁছে গিয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। অজিত দোভাল এর সঙ্গে ছিলেন দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার এসএন শ্রীবাস্তব।

এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অজিত দোভাল জানান,” প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে আমি আজ এখানে এসেছি। পুলিশ নিজের কাজ করছে। সাধারণ মানুষ একসঙ্গে থাকতে চাই, এখানে কোন শত্রুতা নেই। কয়েকজন দুষ্কৃতী আছে যারা এই হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হবে। ইনশাল্লাহ দিল্লিতে খুব তাড়াতাড়ি শান্তি ফিরে আসবে।”